মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক অভূতপূর্ব নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে কাতারের ওপর নতুন করে আক্রমণ হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশোধমূলক পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেবে। আদেশে বলা হয়েছে, কাতারের ভূখণ্ড বা অবকাঠামোর ওপর যে কোনো ধরনের সশস্ত্র আক্রমণকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করবে।
বুধবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নতুন আদেশে ইতিহাসের নজির ও বিদেশি আগ্রাসনের কারণে কাতারের ওপর অব্যাহত চাপের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কাতারের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষাকে তাদের কৌশলগত নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে। এতে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রয়োজনে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও নিশ্চিত করা হয়েছে। যুদ্ধমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের নেতৃত্বে কাতারের সঙ্গে যৌথ তাৎক্ষণিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে যে কোনো বিদেশি আগ্রাসনের দ্রুত জবাব দেওয়া যায়।
এই প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সব নির্বাহী বিভাগ ও সংস্থাকে আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, কাতারের ওপর কোনো হামলা হলে তা শুধু দোহা নয়, বরং ওয়াশিংটনের জন্যও যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য বলে বিবেচিত হবে।
প্রসঙ্গত, গত মাসে দোহায় ইসরায়েলের নজিরবিহীন বোমা হামলা ঘটে, যেখানে গাজার যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে চলা বৈঠকে হামাসের প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে আগ্রাসন চালানো হয়। ওই হামলায় কয়েকজন ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি নিহত হন, প্রাণ হারান একজন কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা। যদিও হামাসের শীর্ষ নেতৃত্ব অক্ষত থাকে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে এবং কাতার সরাসরি হুমকির মুখে পড়ে।
এই ঘটনার জেরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কাতারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। হোয়াইট হাউসের উদ্যোগে এক যৌথ ফোনকলে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানির কাছে ক্ষমা প্রকাশ করেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নতুন নির্বাহী আদেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঘটলে তার জবাব হবে কঠোর এবং বহুমাত্রিক।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?