বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালনকালে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, দেশে কোনো ধরনের ‘হিন্দুবিদ্বেষী সহিংসতা নেই।’ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নতুন ধারার সংবাদমাধ্যম জিটিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সোমবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।
অধ্যাপক ইউনূস অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বলেন, এখন ভারতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ভুয়া খবর ছড়ানো, আর সেসবের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তার বক্তব্যে বোঝা যায়, প্রতিবেশী দেশকে উদ্দেশ্য করেই তিনি এ ইঙ্গিত দিয়েছেন।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শান্তিতে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি সাক্ষাৎকারে বলেন, জনগণ তাকে বেছে নেওয়ায় তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। প্রথমে দ্বিধান্বিত থাকলেও আন্দোলনকারীদের ত্যাগ স্বীকার দেখে তিনি শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে সে সময় তিনি বলেছিলেন, “আপনারা যদি এত কিছু ত্যাগ করতে পারেন, তবে আমি আমার সিদ্ধান্ত বদলাব।”
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অবস্থান পরিষ্কার করেন। জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সরকারের করণীয় প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ নিয়েও তিনি কথা বলেন, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অধ্যাপক ইউনূসের বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে থেকে তিনি একদিকে আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামলাতে কৌশলী অবস্থান নিচ্ছেন। তবে তার এই মন্তব্য ঘিরে দেশ-বিদেশে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে।