ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক তারকা ক্রিকেটার ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সাকিব আল হাসান। তবে তার এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে প্রবল সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম, এনসিপি নেতা সারজিস আলমসহ অসংখ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব সাকিবের এই অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
সমালোচকদের মতে, দেশের জনগণ যখন দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রক্ত দিয়ে সংগ্রাম করছে, তখন একজন জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদের পক্ষ থেকে ক্ষমতাচ্যুত নেত্রীর জন্মদিনে অভিনন্দন বার্তা দেওয়া জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তারা মনে করছেন, সাকিবের এমন অবস্থান তার সামাজিক দায়বদ্ধতা ও বিবেকবোধের প্রশ্ন তোলে।
এই বিতর্কে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর স্নিগ্ধ। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে সাকিবের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন,
“মন থেকে তার পরিবারের প্রতি ঘৃণা জাগে, তবে নির্দোষ সন্তানদের জন্য সহানুভূতি রাখেন। কিন্তু একইসঙ্গে তিনি সাকিবের জন্য কঠিন অভিশাপ ছুড়ে দিয়েছেন, যা জনমনে ক্ষোভের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।”
শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তীও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তার মতে, একসময় সুশীল মহল সাকিবকে ব্যক্তি ও খেলোয়াড় হিসেবে আলাদা করে বিবেচনা করে তাকে ক্ষমা করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু একজন ‘গণহত্যাকারী খুনির’ জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে সাকিব নিজেকে সেই ক্ষমাহীন দালালির সারিতে দাঁড় করিয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষ এখন প্রশ্ন তুলছে, জনতার রক্তের দাগ মুছতে না মুছতেই একজন ক্রীড়া আইকন কেন এমন বিতর্কিত অবস্থান নেবেন। সমালোচকদের অভিযোগ, সাকিব সচেতনভাবেই জনগণের অনুভূতিকে আঘাত করেছেন এবং ক্ষমতাসীন চক্রের প্রতি তার আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। এর ফলে জনতার কাছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।