চীনের শীর্ষ নেতৃত্বে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে প্রাক্তন কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রী তাং রেনজিয়ানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) জিলিন প্রদেশের চাংচুনের ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট এই রায় ঘোষণা করে। তবে সাজা কার্যকরের আগে তাকে দুই বছরের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, যা কার্যত স্থগিত মৃত্যুদণ্ডের শামিল।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, চীনে এই দুই বছরের প্রবেশন সময়ে নতুন অপরাধ না করলে সাধারণত মৃত্যুদণ্ডকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করা হয়, এমনকি ভালো আচরণের ভিত্তিতে সাজা আরও কমতেও পারে।
চায়না ডেইলির খবরে বলা হয়েছে, তাংকে আজীবনের জন্য রাজনৈতিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তার সমস্ত ব্যক্তিগত সম্পদ। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, ২০০৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাং গানসু প্রদেশের গভর্নর এবং কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যবসায়িক চুক্তি, প্রকল্প অনুমোদন এবং চাকরির সমন্বয়সহ নানা খাতে প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অঙ্কের ঘুষ নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ২৬৮ মিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ৩৭.৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘুষ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আদালত স্পষ্ট করে বলেছে, ঘুষের এই বিপুল পরিমাণ দেশ ও জনগণের স্বার্থে ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়েছে। তাই মৃত্যুদণ্ড ছাড়া অন্য শাস্তি প্রাপ্য নয়। তবে আদালত স্বীকার করেছে, তাং তদন্তের সময় স্বেচ্ছায় অজানা কিছু ঘুষের তথ্য প্রকাশ করেছেন এবং অবৈধ অর্থ রাষ্ট্রের হাতে ফেরত দিতে সম্মত হয়েছেন।
চংকিংয়ের বাসিন্দা ৬৩ বছর বয়সী তাং ১৯৮৩ সালে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৯১ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। কয়েক দশক ধরে তিনি কৃষি খাতের বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন। ২০২৪ সালের মে মাসে দলীয় শৃঙ্খলা ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েন। একই বছরের জুলাই মাসে আদালতে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং অবশেষে মৃত্যুদণ্ডের রায়ে পতিত হন তিনি।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?