বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে “দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন”-এর আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে আওয়ামী লীগকে একে—অপরকে “সন্ত্রাসী ও বর্বর রাজনৈতিক দল” হিসেবে অভিহিত করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সমাবেশে তিনি সরকারি নীতিসমূহ ও ক্ষমতাসীন দলের প্রতি তীব্র সমালোচনা করেন এবং জনগণের কাছে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধের আহ্বান জানান।
দুদু বলেন, “পৃথিবীর যত বড় শক্তিই আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিক না কেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের কখনো ক্ষমা করবে না এবং কখনো উঠে দাঁড়াতে দেবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, ক্ষমতায়ে এলে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কাজ করে—মুখে কথা বলে, কাজে ভিন্ন কিছু করে। দেশের স্বাধীনতা পরবর্তী কালচক্র থেকে বর্তমান অচলাবস্থা পর্যন্ত দলটির কর্মকাণ্ডকে তিনি ইতিহাসবিদ্বেষী ও নির্যাতনমূলক বলে বর্ণনা করেন।
দুদু বিচারিক এবং মানবতাবিরোধী ঘটনার অভিযোগও তোলেন; তিনি বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমান রক্ষীবাহিনী গঠন ও বাকশালের পরিণতি, লাখ লাখ মানুষের দুর্ভিক্ষ ও হত্যাকাণ্ড—এসবের ধারাবাহিকতা আজকের দিনে বহাল রাখা হচ্ছে।” বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলকে তিনি গত পনেরো বছরে ব্যাপক লুটপাট, গণতান্ত্রিক অধিকারদমন ও গুম–নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন এবং কয়েকজন বিরোধী নেতার অনুপস্থিতিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
দুদু সমাবেশে আরও বলেন, “আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওই অপশক্তিকে প্রতিরোধ করতে হবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করতে হবে।” তিনি সরকারের প্রতি জোর আবেদন জানান—জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে; কোনোভাবেই সময় অতিবাহিত করে নির্বাচন বিলম্ব করা উচিত নয়।
সমাবেশে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’-এর সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বিএনপি, কৃষক ও শ্রম সংগঠনের বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তারা আ. লীগের বিরুদ্ধে একাত্ম প্রতিরোধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদারের বার্তা দেন।