নিউইয়র্কে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনের ওপর ডিম নিক্ষেপ ও তার পরবর্তী ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ঘটনায় যে যুবলীগ কর্মী মিজানুর রহমান গ্রেফতার হন এবং পরে জামিনে মুক্তি পান—এই সারসংক্ষেপ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদে নিশ্চিত হয়েছে।
ঘটনাটি নিউইয়র্কে আবির্ভূত হওয়া একটি সমাবেশ ও বিমানবন্দরের ভিড়ের সময় সংঘটিত বলে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে। ওই ভিডিওতে আখতারের ওপর ডিম নিক্ষেপের দৃশ্য এবং পরবর্তী তর্কবিতর্ক ধরা পড়েছে; কিছু ক্লিপে আক্রমণকারীর আক্রমণাত্মক বাক্যও ধরা পড়েছে। পরে মিজানুরকে স্থানীয় পুলিশ গ্রেফতার করলেও পরে জামিনে ছাড়া হয়—এ খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
আরও তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে মুক্তির পর মিজানুরের একটি ভিডিও কলে তাকে মাননীয় শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যাওয়ার তথ্যের কারণে। ওই ক্লিপে দেখা যায়, মিজানুর হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এবং তাঁর বক্তৃতায় সরকারের বিরুদ্ধাচরণকে কঠোরভাবে সমর্থন করার সুর রয়েছে;
ভিডিওতে হাসিনাও কিছুক্ষণ ওই দৃশ্যকে অনুকূলভাবে দেখে এবং বাহবা দেন—এই অংশ সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশীয় মহলে তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়। এ সম্পর্কেও সংবাদসংস্থাগুলি খবরে তুলে এনেছে।
ঘটনার পর এনসিপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো প্রসঙ্গে কড়া সমালোচনা এবং নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছে। আখতার নিজেও ঘটনার পর একটি ভিডিও বার্তায় এ হামলা ‘আত্মপ্রকাশযোগ্য’ না বলে উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন যে এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের মেজাজকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে। এই বিবৃতি ও প্রতিক্রিয়া স্থানীয় সংবাদ কভারে উঠে এসেছে।
এই ঘটনার ওপর সামাজিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে তুমুল বিতর্ক চলছে—একদিকে কিছু ব্লগ, পেজ ও গণমাধ্যম এটিকে ‘বিক্ষোভের প্রকাশ’ হিসেবে দেখছে, আবার বিরোধী পক্ষ এটিকে রাজনৈতিক হেনস্তা ও পরিকল্পিত অপকর্ম বলে উল্লেখ করছে। স্থানীয় কনসুলেট, দূতাবাস ও পররাষ্ট্র সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে—ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনার সংগ্রীহ হয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদসূত্র এই সব দিককে রিপোর্ট করেছে এবং এখন বিদেশে অবস্থানকারী রাজনৈতিক প্রতিনিধি দলের নিরাপত্তা ফের আলোচ্য হচ্ছে।
ঘটনাটি রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যবর্তী সময়ে ঘটায় তা দেশের রাজনীতি ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি নতুন প্রতিকূল বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। মামলার পক্রিয়া, ভিডিওর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য আজও অনুসরণীয়; এই ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটনে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার নজর থাকবে।