ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর পাঠকক্ষকে আধুনিক ও আরামদায়ক করার উদ্যোগ নিয়েছে ডাকসু। নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ ঘোষণা দিয়েছেন, এক মাসের মধ্যেই সব রিডিংরুমে এসি স্থাপন করা হবে। রোববার তিনি বলেন,
“শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে এসি অপরিহার্য। তহবিল না থাকলেও বিকল্প উপায়ে অর্থ জোগাড় করে যেকোনো মূল্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবো।”
ফরহাদ জানান, ইতোমধ্যে হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শেষ হয়েছে। শুধু এসি নয়, ক্যাম্পাসের অন্যান্য সমস্যাগুলোও অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন,
“রিডিংরুমে এসি না থাকা, মসজিদের অনুপযুক্ত পরিবেশ এবং ক্যান্টিনের নিম্নমান—এই তিনটি বিষয়েই কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রী হলে রান্নাবান্নার জটিলতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং বাইরের তিনটি হলে সিকিউরিটি ও সাউন্ড নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ফরহাদের ভাষায়,
“আমাদের ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গবেষণা ফান্ড, আন্তর্জাতিক জার্নালে এক্সেস, একাডেমিক ই-মেইলের মাধ্যমে রিসোর্স বাড়ানো, লাইব্রেরি উন্নয়ন—এসব বিষয়ে অফিসিয়াল প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।”
ক্যাম্পাস নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রক্টরিয়াল টিমের সঙ্গে বৈঠক করে টিএসসি কেন্দ্রিক সাউন্ড ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। রিকশা নিয়ন্ত্রণ এবং ফিক্সড পরিবহন চালু করার কাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারে, সেজন্য ডিজিটাল কমপ্লেইন বক্স চালু করার ঘোষণাও দেন তিনি।
নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়েও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ফরহাদ। তার ভাষায়,
“নির্বাচনে দেওয়া ১২ মাসের ৩৬টি সংস্কারের অর্ধেক আমরা ৬ মাসেই শেষ করবো। বাকি কাজগুলো পরবর্তী সময়ে সম্পন্ন হবে। ডাকসুর অতীত অর্জন ছাপিয়ে আমরা নতুন ইতিহাস লিখতে চাই।”
বিরোধী মতের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন,
“বিরোধী মত দমনের কোনো প্রশ্ন নেই। ডাকসু হবে সকল শিক্ষার্থীর প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান। এখানে সকল মত, চিন্তা, শ্রেণি, বয়স ও জেন্ডারের মানুষকে জায়গা দেওয়া হবে।”
শিক্ষকদের মূল্যায়ন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং রেজিস্ট্রার বিল্ডিং কেন্দ্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম কমাতে কঠোর তদারকি গড়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। ফরহাদ দাবি করেন, রাজনৈতিক সহিংসতার দিন শেষ। “ডাকসু কার্যকর হওয়ায় সবাই আমাদের সহযোগিতা করবে। দলীয় এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।”