নির্বাচনে যারা কোটি কোটি টাকার মনোনয়ন–বাণিজ্য করতে পারবে না, তারাই সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতি ঠেকাতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সব দলের প্রতিনিধিত্বের মধ্য দিয়ে একটি অংশীদারির সংসদ হলে কেউ আর কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করতে পারবে না।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে রংপুর মহানগর ও জেলা জামায়াত এই সমাবেশের আয়োজন করে।
জামায়াতের দাবিগুলো হলো—আগামী ফেব্রুয়ারিতে জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন, সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু, সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ফ্যাসিবাদী সরকারের জুলুম-নির্যাতন ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
সমাবেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি পিআর মানতে চায় না, কারণ পদ্ধতিটি কার্যকর হলে কোনো ব্যক্তি কালোটাকা, মাস্তানি বা পেশিশক্তি দিয়ে আর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, “বিএনপির কিছু নেতা বলছেন, মানুষ পিআর বোঝে না। আমরা বলছি, গণভোট দিন। অধিকাংশ মানুষ যদি পিআরের পক্ষে থাকে, তবে সবারই মানতে হবে।”
তিনি সরকার প্রধানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “যখনই আমরা পিআরের কথা বলি তখনই আপনি সংবিধান দেখান। সংবিধান যদি মানেন, তাহলে শেখ হাসিনার সংবিধান অনুযায়ী ২০২৯ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা। তাহলে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেন বলছেন?”
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সংস্কারের পথে ঐকমত্য কমিশনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “যদি বিদ্যমান কাঠামোয় আবার নির্বাচন হয়, তবে আরেকটি হাসিনার জন্ম হবে, আরেকটি ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে। বাংলার মানুষ তা হতে দেবে না।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা এ টি এম আজম খান। বক্তব্য দেন মহানগরের সাবেক আমির অধ্যাপক মাহবুবার রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী প্রমুখ। পরে পাঁচ দফা দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে নগরের শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।