শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ভারতীয় কেমিক্যাল যুক্ত মথ ডাল বাংলাদেশে বিক্রি হচ্ছে মুগ ডাল হিসেবে

বাংলাদেশ সরকার মথ(MOTH)ডাল আমদানি করার অনুমোদন বা (IP) দিয়েছে রং বা কেমিক্যাল মুক্ত , কিন্তুু কেমিক্যাল যুক্ত মথ(MOTH)ডাল আমদানি করার অনুমোদন তো বাংলাদেশ সরকার দেন নাই,তাহলে কিভাবে কেমিক্যাল যুক্ত ভারতীয় মথ(MOTH) ডাল বাংলাদেশ ছড়িয়ে পড়লো?

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২০:২৫

মোঃ জয়নাল আবেদিন জয় ,ব্যুরো প্রধান; রাজশাহী 

ভারত থেকে আমদানি করা মথ(MOTH) ডালে মেশানো হয়েছে ক্ষতিকারক রং ও কেমিক্যাল,অতি মুনাফার জন্য অসাধু ব্যবসায়ী ও আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান গুলো এই অপকর্মের সাথে জড়িত হয়েছে বলে জানিয়েছে কোয়ারেন্টাইন(Quarantine) স্থলবন্দর এর উপ পরিচালকরা। রং বা কেমিক্যাল মেশানো মথ(MOTH) ডাল সারা দেশের ভোক্তা পর্যায় মুগ ডাউল হিসেবে বিক্রি কারাছে অসাধু ব্যবসায়-সম্পৃক্ত আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান গুলো। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের দোকানদার দের দিয়ে,এতে একদিকে প্রতারিত হচ্ছে জনসাধারণ আর মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে বাংলাদেশের নিম্ন আয়ের মানুষ।

এ বিষয়ে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডাক্তার এস আই এম রাজিউল ইসলাম ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাক্তার আবু তালেব বলেন,ল্যাব রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী ভারত থেকে আমদানি করা মথ(MOTH) ডালে যে কেমিক্যাল বা রং মেশানো হয়েছে সেটি খেলে লিভারে অনেক রকম রোগের সৃষ্টি হবে,যেমন হজমি শক্তি কমে যাবে,পেট ফুলে ফেঁপে বদ হজম সহ লিভারে সমস্যা দেখা দেবে এবং এটা আস্তে আস্তে লিভার সিরোসিস রোগে পরিণত হবে।

এ বিষয়ে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফিয়া আক্তার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,ভারত থেকে আমদানি করা মথ(MOTH) ডালে ল্যাবটেস্ট রিপোর্টে যেহেতু ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বা রং এর অস্তিত্ব মিলেছে তাই এটা জনস্বাস্থ্যে ও জনস্বার্থে বন্ধ করতে যা যা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার রাজশাহী জেলা প্রশাসক সেটা করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভারত থেকে আমদানি করা কেমিক্যাল যুক্ত মথ(MOTH)ডাল আর বাংলাদেশের মুগ ডাউল দুটি আকারে প্রায় একই রকম,তাই সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারবে না তারা আসলে কি খাচ্ছে মথ(MOTH)ডাল না কি মুগ ডাউল?

আমাদের দেশে মুগ ডাউল উৎপাদন করা হলেও মথ(MOTH)ডাল কিন্তুু উৎপাদন হয় না। সেটা উৎপাদন হয় আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে।

বাংলাদেশ সরকার মথ(MOTH)ডাল আমদানি করার অনুমোদন বা (IP) দিয়েছে রং বা কেমিক্যাল মুক্ত , কিন্তুু কেমিক্যাল যুক্ত মথ(MOTH)ডাল আমদানি করার অনুমোদন তো বাংলাদেশ সরকার দেন নাই,তাহলে কিভাবে কেমিক্যাল যুক্ত ভারতীয় মথ(MOTH) ডাল বাংলাদেশ ছড়িয়ে পড়লো?

অনুসন্ধানে দেখা যায়,আমাদের দেশের

অসাধু ব্যবসায়ীরা ও আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান গুলো অতি মুনাফার জন্য এই অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,ভারত সরকার পরিষ্কার ভাবে ঘোষণা দিয়েছে তাদের নিজ দেশেয় রং বা কেমিক্যাল মেশানো মথ(MOTH)ডাল ক্রয় বিক্রির নিষিদ্ধ। আরো উল্লেখ থাকে যে,ভারতে মথ(MOTH)ডাল গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মুগ ডাউল চাহিদা মতো বাংলাদেশে

উৎপাদন হয় না,ফলে বিদেশ থেকে অন্তত ৭৫ শতাংশ আমদানির উপর নির্ভর করতে হয়। বাংলাদেশে বছরে গড়ে ৩৫-৩৬ হাজার মেট্রিকটন মুগ ডাউল উৎপাদন করা হয়,বাকি অন্তত ৭৫ শতাংশ মুগ ডাউল আমদানি করতে হয় দেশের বাহিরে থেকে ।

আর সেই সুযোগে ভারতীয় কেমিক্যাল যুক্ত মথ(MOTH)ডাল আমদানি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করাচ্ছে মুগ ডাউল হিসেবে।

তথ্য মতে, ভারতীয় মথ(MOTH)ডাল বাংলার বাজারে মুগ ডাউল হিসেবে বিক্রি করার আগে তাতে রং বা কেমিক্যাল মেশাচ্ছে অসাধু আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান গুলো।

সোনামসজিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

স্থলবন্দরের দায়িত্বরত কোয়ারেন্টাইন(Quarantine) উপ পরিচালক শামীর চন্দ্র ঘোষ ও জাতীয় রাজস্ব কর্মকর্তা সোনা মসজিদ স্থলবন্দর

তথ্য অনুযায়ী সোনা মসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে যে কোম্পানিগুলো কেমিক্যাল বা রং মেশানো মথ(MOTH)ডাল আমদানি করে সেগুলো হলোঃ বিসমিল্লাহ ফ্লাওয়ার মিল, বিসমিল্লাহ ডাউন মিল,নিঝুম শস্য ভান্ডার,এম এ ট্রেডি,শ্যামলী ডাউন মিল বাবর ডাবল মিল,মেসার্স সালমান খুরশিদ ডাউল মিল,সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে উক্ত কোম্পানিগুলো চলতি বছরে ৭০০০(সাত হাজার)৭০০(সাত শত)৭৭(সাত্তার) মেট্রিক টন কেমিক্যাল যুক্ত বা রং মেশানো মথ(MOTH) ডাল এই স্থলবন্দর আমদানি করছে।

এই মথ(MOTH)ডাল গুলোতে কেমিক্যাল বা রং মেশানো কি না বা স্বাস্থ্যসম্মত কি না সেটা পরীক্ষা করার মত ল্যাব বা জনবল আমাদের নেই,ভারত থেকে আমদানিকৃত মথ(MOTH)ডাল আমাদের স্থলবন্দরে আসার পরে আমরা দেখি সেটিতে কোন পোকা মাকড় আছে কিনা বা প্যাকেট বা বস্তুা ছিড়া ফাটা আছে কিনা,ওজন সঠিক আছে কি না,এই গুলো দেখার পরে আমরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কে ছাড় পত্র দেওয়ার জন্য অবহিত করি।তবে ভারত থেকে আমদানিকৃত মথ(MOTH)ডালে কোন ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বা রং মেশানো আছে কিনা সেটি বলতে পারবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর,ও বিএসটিআই।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক জহরুল সিকদার ও এডি শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, এটা কৃষিজ পণ্য। আমরা এই পণ্য আমদানিতে কোনো ছাড়পত্র দিতে পারি না। এটা কৃষি বিভাগ দেখে।’ ভারত থেকে আমদানি কৃত মথ(MOTH)ডাল সরকার অনুমোদিত বিএসটিআই এর তালিকাভুক্ত ৩১৫(তিনশত পনেরো)টি পন্যর মধ্যে নয়। এটা সরকার তালিকা ভুক্ত করলে আমরা ল্যাব টেস্ট করে এর ক্ষতিকারক কোন ক্যামিকেল বা রং মেশানো থাকলে আমরা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কে বাজার যাত বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করবো,কারণ এটা জনস্বার্থে ও জনস্বাস্থ্যের জন্য অতীব জরুরী।

সোনামসজিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্থলবন্দরের কোয়ারেন্টাইন(Quarantine) উপ পরিচালক শামীর চন্দ্র ঘোষ,

(বাংলাবান্ধা) স্থলবন্দর পঞ্চগড়, কোয়ারেন্টাইন(Quarantine) উপ পরিচালক নূর হাসান,(হিলি)দিনাজপুর স্থলবন্দর কোয়ারেন্টাইন(Quarantine) উপ পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন(বেনাপোল)যশোর,কোয়ারেন্টাইন(Quarantine) উপ পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান,(ভোমরা)সাতক্ষীরা স্থলবন্দর কোয়ারেন্টাইন(Quarantine) উপ পরিচালক কাজি শাহনেওয়াজ,

তারা বলেন,অসাধু ব্যবসায়ী ও আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান গুলো অতি মুনফার জন্য ভারত থেকে মথ(MOTH)ডাল আমদানি করার পরে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতারণার জন্য এই ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বা রং মিশাচ্ছে। ভারত থেকে আমদানিকৃত মথ(MOTH)ডালে ল্যাবটেস্ট করে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল রং মেশানো প্রমান মিলেছে,তাই এটা জনস্বাস্থ্যে ও জনস্বার্থে বন্ধ হওয়া অতি জরুরী। তাই এটা বন্ধ করতে বা আইপি না দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি,ঢাকা,উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইং-এর অতিরিক্ত উপপরিচালক বনি আমিন খান ও বাংলাদেশ স্থলবন্দর জনসংযোগ কর্মকর্তা জনাব মোঃ রায়হান কবির বলেন,ভারত থেকে আমদানিকৃত মথ(MOTH)ডালে ল্যাবটেস্ট করে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল রং মেশানো প্রমান মিলেছে,তাই এটা জনস্বাস্থ্যে ও জনস্বার্থে বন্ধ করতে বা আইপি(IP) না দেওয়ার জন্য আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সহ বানিজ্য মন্ত্রণালয় কে অনুরোধ জানাবো।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।