ইরানে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ বাবাক শাহবাজি নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির সরকার। বুধবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, শাহবাজি ঘর ঠান্ডা রাখার যন্ত্র স্থাপনের কাজ করতেন, আর এই পেশাগত সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় প্রবেশাধিকার পান। অভিযোগ অনুসারে, তিনি সার্ভার রুম, সামরিক কেন্দ্র এবং নিরাপত্তা স্থাপনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতেন।
ইরান ও ইসরায়েলের বৈরিতা দীর্ঘদিনের। মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে টানাপড়েন এবং আঞ্চলিক সংঘাতে বিপরীত অবস্থান দুই দেশের মধ্যে এক অঘোষিত ছায়াযুদ্ধকে আরও ঘনীভূত করেছে। ইরান অভিযোগ করে আসছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তাদের ভেতরে নাশকতা, গুপ্তচরবৃত্তি ও উচ্চপর্যায়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাবাক শাহবাজি ২০২২ সালের শুরু থেকে ইসমাইল ফেকরি নামের আরেক অভিযুক্তের সঙ্গে কাজ করছিলেন। ফেকরিকেও গত জুনে একই অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। শাহবাজির আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলেও তা খারিজ হয় এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
ইরানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে শাস্তি কার্যকরে নজিরবিহীন কঠোরতা দেখা যাচ্ছে। শুধু চলতি বছরেই অন্তত ৩৫০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যাদের অনেকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ ছিল—তারা মোসাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে তথ্য পাচার করছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাবাক শাহবাজির মৃত্যুদণ্ড শুধু একজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শাস্তি নয়, বরং এটি সম্ভাব্য গুপ্তচরদের জন্য এক কঠোর সতর্কবার্তা। ইরান সরকারও পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে—বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আঁতাতের শাস্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডই হবে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?