পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার নাফিস খন্দকার (২১) নামক একজন মেধাবী শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)।
সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পড়ুয়া শিক্ষার্থী ছিলেন। গলাচিপা সরকারি কলেজ এর সাবেক প্রভাষক গোলাম মাওলা খন্দকার ও বাংলাদেশ তুরস্ক ফ্রেন্ডশীপ স্কুলের শিক্ষিকা ইয়াসমিন দম্পতির একমাত্র পুত্র।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক বিকাল ৩ টায় দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইসতিয়াক এম. সৈয়দ।
মৃত্যুবরণ করা নাফিস ওই হলের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। আজ বাদ মাগরিব কার্জন হলে (রসায়ন বিভাগ প্রাঙ্গণ) তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার জানাজায় ঢাবি ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, অমর একুশে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক এম. সৈয়দ প্রমুখ।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ডাকসু নব নির্বাচিত ভিপি সাদিক কায়েম, ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম আবিদ এবং জিএস প্রার্থী হামীমসহ দায়িত্বশীল অনন্যারা।
নিহতের স্বজনদের তথ্যে জানা যায়, ‘বেশ কিছুদিন যাবৎ সে অসুস্থ ছিল। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢামেক থেকে তাকে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তার মৃত্যু হয়।’
তারা আরও জানান, ‘সে গত ৬ মাস যাবৎ অসুস্থ এবং তার শরীনে রক্ত উৎপাদন হয় না। এ ছাড়াও ইনকোর্স পরীক্ষা থাকায় গত দুইদিন রাতে ঘুমায়নি।’
নাফিস খন্দকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি আবু সাদিক কায়েম। ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে দুয়া, তিনি যেন নাফিসকে ক্ষমা করে দেন। তার কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দেন, আর দান করেন জান্নাতুল ফিরদাউস। আমিন।’
তার মৃত্যুতে গলাচিপা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।