আমজনতার দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ বলেছেন, মন চাইলেই উপদেষ্টাদের উড়াল দেওয়ার সুযোগ নেই, চিকিৎসা নিতে হবে দেশেই। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে আরিফ বিল্লাহ বলেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার নিজেরই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর আস্থা নেই। অথচ সেই স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করবেন? তিনি ব্যক্তিগত খরচ বা রাষ্ট্রীয় অর্থে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে পারেন, কিন্তু একজন রিকশাচালক কেন সেই সুযোগ পাবে না—এ প্রশ্নই এখন বড়। উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার অধিকার কি শুধু বিশেষ সুবিধাভোগীদের জন্য?
তিনি বলেন, একজন উপদেষ্টা যদি নিজেই দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি আস্থা না রাখেন, তবে জনগণকে বিশ্বাস করাতে পারবেন না। এটা দ্বিচারিতা ও নৈতিক সংকট তৈরি করে। তার মতে, সমস্যা থাকলে খোলাখুলিভাবে চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত, আস্থাহীনতা লুকানো নয়।
আরিফ বিল্লাহ বিশ্বের বিভিন্ন উদাহরণ টেনে বলেন, কিউবার নেতা-মন্ত্রী থেকে শুরু করে যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, নিউজিল্যান্ডের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীতিকরা সবাই নিজ দেশের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসা নেন।
এমনকি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন কোভিড আক্রান্ত হলে NHS হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছিলেন। বাংলাদেশেও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ ১৭ বছর দেশেই চিকিৎসা নিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ভিপি নুরুল হক নূর বিদেশে না গিয়ে দেশেই চিকিৎসা নেওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তিনি বলেন, যখন শীর্ষ পর্যায়ের কেউ নিজেই দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারান, তখন সাধারণ মানুষ আরও বেশি হতাশ হয় এবং বিকল্প খুঁজতে থাকে। এতে সমতা ও ন্যায়ের প্রশ্নে বড় সংকট তৈরি হয়। স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব শুধু পরামর্শ দেওয়া নয়, বরং এমন ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে সবার জন্য সমান ও বিশ্বাসযোগ্য সেবা নিশ্চিত হয়।
সব মিলিয়ে আরিফ বিল্লাহর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—রাজনৈতিক নেতৃত্বের আস্থা না থাকলে জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বাস তৈরি সম্ভব নয়।