জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনের তারিখ বা ডেডলাইন নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হোক বা আগামীকালই হোক, এতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে আগে নিশ্চিত করতে হবে—নির্বাচনে আমূল পরিবর্তন আনা হবে কিনা।”
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের তুলাগাঁও গ্রামে ‘উঠানে রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে দেশে বহু নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু তার মাধ্যমে কেবল দারোয়ান পরিবর্তন হয়েছে। চুরি-চামারি বন্ধ হয়নি, ভোট ডাকাতি বন্ধ হয়নি। প্রকৃত গণতন্ত্র নিশ্চিত না হলে কেবল নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করে কোনো ফল আসবে না।
হাসনাত আব্দুল্লাহ মনে করেন, গণতন্ত্রের সুরক্ষা বাউন্ডারি তৈরি করা জরুরি। তিনি বলেন, “আগামী দিনে নির্বাচন হলেও যদি আমরা অংশ না নিই, তারপরও সেটা যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়—এই নিশ্চয়তা চাই।”
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি দলের নেতাকর্মীরা হুমকি দিচ্ছে—তাদের প্রতীকে ভোট না দিলে মানুষকে ঘর থেকে তুলে নেওয়া হবে। এমনকি ব্যালটে তাদের প্রতীক না থাকলে নিজেরাই ব্যালট ছাপাবে বলেও ঘোষণা দিচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্যে সাধারণ মানুষ নির্বাচনের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, দেশে পেশিশক্তির রাজনীতি বন্ধ করতে হবে, মানুষের ভোটাধিকার লুট বন্ধ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা কেবল নেতার পরিবর্তন চাই না, আমরা চাই নীতির পরিবর্তন। আমরা ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র চাই। এজন্য প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।”
দেবিদ্বার উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী জামাল মোহাম্মদ কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম, এহতেশাম হক প্রমুখ।