জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনকে বিতর্কিত করতেই নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য পদত্যাগ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদপ্রার্থী ফেরদৌস আল হাসান।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “যুদ্ধের ময়দানে এসে তিনি লেজ গুটিয়ে পালিয়েছেন। তার পদত্যাগ আমাদের কাছে মনে হয়, নির্বাচন ঘিরে তার হীন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে না পেরে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন।”
এর আগে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলাভবনে নির্বাচন কমিশনের সদস্য ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার অনিয়মের অভিযোগ তুলে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাবেক সহসভাপতি হিসেবেও পরিচিত।
ফেরদৌস বলেন, “গতকাল আমরা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে তারা জাকসু চায়। শতকরা ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। ত্রুটি কিছু থাকলেও নির্বাচন বানচালের চেষ্টাগুলো সফল হবে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট এখনো গণনা হয়নি, যদিও ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেছে।
“কমিশনের প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল। ম্যানুয়াল ভোট গণনার সিদ্ধান্তে আমাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি,”— বলেন ফেরদৌস।
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটার সংখ্যা ছিল ১১,৭৪৩ জন, এর মধ্যে প্রায় ৬৮% ভোট কাস্ট হয়েছে।
জাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। ভোটের দিন সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), যুগ্ম সম্পাদক (পুরুষ ও নারী)সহ বিভিন্ন পদে ভোট গ্রহণ হয়।
তবে নির্বাচনের দিনেই ছাত্রদল, প্রগতিশীল জোট, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট-সহ কয়েকটি প্যানেল ভোট বর্জন করে অনিয়মের অভিযোগ তোলে। বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও ভোট বর্জন করেছেন।