একটি মার্কিন গবেষণা সংস্থা তাদের বিশ্লেষণে স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকা ও সৌদি আরবের মতোই দখলদার ইসরায়েলও ইয়েমেনকে দমন করতে পারছে না। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের সহযোগী সাময়িকী রেসপনসিবল স্টেটক্রাফট বলছে, ইসরায়েল ইয়েমেনে আগুন নিয়ে খেলছে এবং এই যুদ্ধ এখন তার জন্য ক্রমেই এক ক্ষয়িষ্ণু সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলি হামলার পর আনসারুল্লাহ নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি ঘোষণা দেন,
“যুদ্ধ নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।” বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল বক্তব্য নয়, বরং দুই বছরের পুরোনো যুদ্ধের কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। একদিকে অঞ্চলের প্রযুক্তিগতভাবে সবচেয়ে উন্নত সেনাবাহিনী, অন্যদিকে সবচেয়ে অভিজ্ঞ গেরিলা বাহিনী মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছে।
সাময়িকী বলছে, গাজার যুদ্ধ এই সংঘাতকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এটি ইয়েমেনিদের জন্য আদর্শিক জ্বালানি ও রাজনৈতিক সুযোগ এনে দিয়েছে নিজেদের পুনর্গঠনের। ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি ঘোষণা করে তারা আঞ্চলিক শক্তি থেকে বৈশ্বিক স্তরে প্রভাব বিস্তারকারী পরিবর্তনসাধক শক্তিতে রূপ নিয়েছে।
প্রতিবেদনে মে মাসের এক নাটকীয় মোড়ের কথাও বলা হয়। তখন ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘ ব্যয়সাপেক্ষ ও ব্যর্থ বিমান অভিযানের ফাঁদ থেকে মুক্তি পেতে ইয়েমেনিদের সঙ্গে হঠাৎ যুদ্ধবিরতিতে যায়। সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনি লক্ষ্যবস্তুতে বোমা বর্ষণ বন্ধ করে এবং ইয়েমেনিরা আমেরিকার জাহাজে আক্রমণ বন্ধ রাখে। এটি ছিল ইয়েমেনিদের জন্য এক বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য—তারা দেখিয়েছে, একটি পরাশক্তির সঙ্গে সরাসরি লড়েও তারা টলে যায়নি।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো এই চুক্তি ইসরায়েলকে পাশ কাটিয়ে সম্পন্ন হয়। তেলআবিব তখন বুঝতে বাধ্য হয়, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সে কার্যত একা পড়ে গেছে। কুইন্সির মতে, বিমান হামলায় ইয়েমেনিদের হারানো প্রায় অসম্ভব—সৌদি আরবের সাত বছরের ব্যর্থ হস্তক্ষেপই এর প্রমাণ। ওয়াশিংটনও একই শিক্ষা পেয়েছে—স্বল্পমেয়াদী বিমান যুদ্ধ অর্থহীন, আর স্থল আক্রমণ একেবারেই অকল্পনীয়।
ফলে ইসরায়েল এখন এমন এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে যেখানে সামরিক কোনো জয় সম্ভব নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি ইয়েমেনিদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক কৌশল প্রয়োগকেই অসম্ভব করে তুলেছে। তারা উত্তর ইয়েমেনের বাস্তবিক শাসক হিসেবে চ্যালেঞ্জহীন অবস্থান ধরে রেখেছে, আর বিরোধী পক্ষ কৌশলগত অচলাবস্থায় পড়ে গেছে।
ফলস্বরূপ, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, আর ইসরায়েল এমন এক যুদ্ধে আটকে গেছে যার শেষ নেই এবং যেখানে তার জয়ের কোনো সম্ভাবনাই নেই।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?