ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক শেহরীন আমিন মোনামিকে কেন্দ্র করে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ছাত্রদল–সমর্থিত প্রার্থী শেখ তানভির বারী হামিমের সঙ্গে তিনি তীব্র বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় মোনামি পদত্যাগের হুমকি দিলে হামিম পাল্টা মন্তব্য করে বলেন, “আপনি পদত্যাগ করলে আমার কী?” পরে ছাত্রদলের আরও কিছু নেতাকর্মীও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের অবস্থান ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন মোনামি। বাংলা ও ইংরেজি মিশিয়ে লেখা সেই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি শুধু একজন শিক্ষক হতে চেয়েছি।
আমার কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। কিন্তু আজ আমি অভিযোগে অভিযুক্ত, হয়রানির শিকার (নিজ ক্যাম্পাসে এবং অনলাইনেও)।”
তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আমার শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাই—আমি কি কখনো পক্ষপাতদুষ্ট ছিলাম? আমি কি কখনো তোমাদের রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চেয়েছি? আমি কি সর্বোচ্চ চেষ্টা করিনি তোমাদের সাহায্য করার? তাহলে আজ কেন এসব অভিযোগ?”
মোনামি তার স্ট্যাটাসে আরও লিখেছেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমাকে কষ্ট দিয়েছে, তবে আমি জানি আমি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলাম। নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করছিল প্রার্থীরাই। আমি আমার দায়িত্বে কঠোর ছিলাম এবং এতে আমার কোনো অনুশোচনা নেই।”
তিনি অতীতের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি, পহেলা বৈশাখ, ১৪ জুলাইয়ের কনসার্ট কিংবা ৫ আগস্টের অনুষ্ঠান—সব দায়িত্বই তিনি সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু এবার তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এমনকি একজন সহকর্মীকেও অপমানের শিকার হতে হয়েছে, কারণ তিনি মোনামির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “আমি এই কষ্ট কোনোদিন ভুলব না। আমি কাউকেই ভয় করি না, কারণ সত্য আমার পক্ষে। তবু আমি চুপচাপ ফিরে এসেছি, কারণ আমি চাইনি আমার কারণে নির্বাচন ব্যাহত হোক।”
সবশেষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মোনামি বলেন, “তোমরা এতদিন পর এত সুন্দর একটি নির্বাচন করেছো। দয়া করে স্বার্থান্বেষী মহলকে এটা নষ্ট করতে দিও না।”