কাতারের রাজধানী দোহায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত দাবি করেছে, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল হামাস নেতাদের টার্গেট করা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেলে দোহায় একের পর এক বিস্ফোরণে শহর কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে পুরো নগরীতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোহার আকাশজুড়ে মুহূর্তেই ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, যা দূর থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই হামলা এক নতুন মোড় যোগ করেছে। এতদিন গোপনে নানা আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত দোহা হামাস নেতৃত্বের রাজনৈতিক অবস্থান ও আলাপ-আলোচনার অন্যতম জায়গা ছিল। এবার সেখানে ইসরাইলের সরাসরি হামলা শুধু আঞ্চলিক অস্থিরতাই নয়, বরং কাতারের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয় ও শীর্ষ নেতাদের নিরাপদ আবাস দোহাতেই ছিল—এই প্রেক্ষাপটে শিন বেতের দাবি যে হামাস নেতাদের হত্যাই ছিল মূল উদ্দেশ্য, তা অস্বীকার করা কঠিন। যদিও কাতার এতদিন ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে, তবুও দোহার মাটিতে এমন হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।
এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণহানি বা হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। কাতার সরকার প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা ও উদ্ধারকর্মীরা মোতায়েন রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে ইতোমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হামলা যদি সত্যিই হামাস নেতৃত্বকে টার্গেট করে হয়ে থাকে তবে এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াই নয়, বরং বিশ্ব কূটনীতির জন্যও বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে।
বিস্তারিত তথ্য এখনো আসছে, তবে এতটুকু স্পষ্ট যে দোহায় সংঘটিত এই বিস্ফোরণ শুধু একটি সামরিক হামলা নয়, বরং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির জন্য এক গভীর বার্তা।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?