ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম বলেছেন, এ দেশের পরিবর্তন দেশের জনগণকেই করতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছি। ২০০৮ সাল থেকে আমরা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি করে আসছি এবং সেই দাবিতে আমরা অটল আছি।
আমাদের স্পষ্ট দাবি—জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন নিশ্চিত করা।”
শনিবার বিকালে শেরপুরের নালিতাবাড়ী শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চে উপজেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মুফতি রেজাউল করীম বলেন, “আগের পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে দেশে ফ্যাসিস্ট তৈরি হয়, প্রায় ৬০ ভাগ মানুষ অবহেলিত থেকে যায়। কিন্তু পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে দেশে আর ফ্যাসিস্ট তৈরির সুযোগ থাকবে না। জনগণের ভোটের প্রতিফলনই হবে আসল গণতন্ত্র।
” তিনি আরও বলেন, “ইউনূস সরকারের তিনটি ওয়াদা ছিল—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। এখন পর্যন্ত কোনোটিই আলোর মুখ দেখেনি। আমরা ইসলামের জন্য, দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করি। তাই পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের দাবি আমাদের ন্যায়সঙ্গত। যারা এ দাবির বিরুদ্ধে কটূক্তি করেন তারা প্রকৃত অর্থে জ্ঞানপাপী।”
তিনি দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের সবাইকে হাতপাখার তলে সমবেত হতে হবে। এ পরিবর্তন আমাদেরকেই করতে হবে।”
গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নালিতাবাড়ী ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা আবু বকর। বিশেষ অতিথি ছিলেন শেরপুর-২ আসনের দলের প্রার্থী মুফতি আব্দুল্লাহ আল কায়েস,
ইসলামী আন্দোলনের টাঙ্গাইলের মাওলানা রেজাউল করীম, শেরপুরের অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান, মুফতি ফখর উদ্দিন, মাওলানা ফারুক আহমেদ, মুফতি আবু তালেব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মুজিবুর রহমান ও জামায়াত নেতা আবুল মোমেন।
গণসমাবেশকে ঘিরে দুপুর থেকেই ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। দূর-দূরান্ত থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চে প্রবেশ করেন। বিকাল সাড়ে ৫টায় মুফতি রেজাউল করীম প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন।