বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য যত উন্নয়ন হয়েছে, সবই বিএনপির শাসনামলেই সম্পন্ন হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ দেশকে উন্নয়ন ও গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত করেছে, আর বিএনপি জনগণের অধিকার ও উন্নয়নের রাজনীতি করেছে।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদরের বাইপাস সড়ক মোড়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, “আমরা প্রতিজ্ঞা করতে চাই—বাংলাদেশে আর কোনো গুম-খুন হবে না, কোনো মিথ্যা মামলায় কাউকে জেলে যেতে হবে না, আর কোনো নারী ধর্ষণের শিকার হবে না। আমরা চাই এই দেশের মাটিতে নতুন রাজনীতি ও নতুন দিগন্তের সূচনা হোক। আর এই নতুন সূচনা সম্ভব হবে কেবল আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে।”
তিনি আরও বলেন, দেশে একটি স্বচ্ছ সংসদ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে এমপিরা জনগণের হয়ে কাজ করবেন, কোনো বিদেশি স্বার্থের হয়ে নয়। কিন্তু এখনো ষড়যন্ত্র চলছে যাতে বাংলাদেশে নির্বাচন না হয়, বরং দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তাৎপর্য তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, “আজ আমার সামনে শত শত মানুষ আছেন যারা শহীদ জিয়াউর রহমানকে দেখেননি, খালেদা জিয়াকেও চেনেন না। তাদেরকে প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে। গত ১৭ বছরে এই ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। এজন্যই আমরা প্রতি বছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করি—এটি শুধু বিএনপির নয়, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পুনর্জাগরণের দিন।”
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের জন্য ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়েছিলেন, আর আজ তারেক রহমান দিয়েছেন ৩১ দফা কর্মসূচি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, যদি বিএনপি আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে জয়ী হয়, তবে প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি যুবককে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানসহ মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ফজলুল হক টুলু, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. শাহীন মাতুব্বর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, প্রাক্তন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আছাদ মাতুব্বরসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।