কুমিল্লার দেবিদ্বার আসন দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু আগামী নির্বাচনে এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি পদে দাঁড়াতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি তার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সরেজমিনে জানা যায়, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি বর্তমানে তিন ভাগে বিভক্ত। সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী এবং সাবেক ছাত্রনেতা এমএ আউয়াল খান আলাদা তিনটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
প্রতিটি গ্রুপ নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে শোডাউন করছে। এর মধ্যে মঞ্জু ও তারেকের গ্রুপ তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী হলেও ত্রিমুখী দ্বন্দ্বে পুরো বিএনপি দুর্বল হয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে চাইছেন তরুণ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি তৃণমূলে নিয়মিত গণসংযোগ চালাচ্ছেন এবং এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির দ্বন্দ্ব যত বাড়বে, হাসনাত ততটাই জনপ্রিয় হবেন। বিশেষ করে ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে সামনের সারির ভূমিকা তাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করেছে।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম সহিদও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। ফলে নির্বাচনী লড়াই আরও জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, দেবিদ্বার বিএনপির ভোটব্যাংক এলাকা হলেও বিভক্ত নেতৃত্ব ধানের শীষের জয়ে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদি বিএনপির নেতারা ঐক্যবদ্ধ হন, তবে তারা আসন পুনরুদ্ধারে সক্ষম হবেন। তবে বিভক্তি অব্যাহত থাকলে হাসনাত আবদুল্লাহ বড় চমক দিতে পারেন।