কাগজ ও কলম দিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয়, বরং তারা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক রুমিন ফারহানা। সম্প্রতি জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ ঘিরে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গতকাল এক টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী—কাগজে-কলমে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করলেও তা স্থায়ী হয় না।
রুমিন ফারহানা বলেন, “সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে আত্মতুষ্টি পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু কোনো দলকে জনগণের মন থেকে মুছে দেওয়া যায় না। বরং পরবর্তীতে সেই দল আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে।” তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, পাকিস্তানে ইমরান খানের পার্টির মার্কা বাতিল করা হলেও তারা স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হয়ে জিতে এসেছে। এটি প্রমাণ করে, রাজনৈতিক শক্তি দমন করা যায় না।
আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজ যদি আওয়ামী লীগকে মানুষের আদালতে ছেড়ে দেওয়া হতো, তাহলে তারা কয়টি আসনে সাহস করে প্রার্থী দিতো? এমনকি প্রার্থী দিলেও এলাকায় গিয়ে প্রচারণা চালাতে পারতো না।”
তার মতে, যদি ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার প্রমাণ করতে পারে যে তার শাসনকাল শেখ হাসিনার সময়ের চেয়ে ভালো, তাহলে আওয়ামী লীগের আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগই থাকত না।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের নাজুক পরিস্থিতির কারণে আওয়ামী লীগ এখনো প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পাবে। আর এ কারণেই ড. ইউনূসের সরকারের জন্য সামনে চ্যালেঞ্জ বাড়বে।
বিএনপি নেত্রী আরও বলেন, রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলকে নিষিদ্ধ করার বদলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকারই একমাত্র উপায় যা দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর শক্তি-দুর্বলতা নির্ধারণ হবে।