ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, শুধু ভালো নির্বাচন দেশের সংকট দূর করতে পারবে না। প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য দর্শন ও রাজনৈতিক চিন্তার রূপান্তর জরুরি।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের গ্রিন গার্ডেন রেস্টুরেন্টে ইসলামী যুব আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজিত ‘সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম পীর সাহেব চরমোনাইয়ের রাজনৈতিক দর্শন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, অনেকে মনে করেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই দেশের সব সমস্যার সমাধান হবে। অথচ ইতিহাস প্রমাণ করেছে, ১৯৭০, ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই সরকারগুলো গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। নেতা আর দল পাল্টেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি।
তিনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাদের বক্তব্যে কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই। জয় সাহেব মৌলবাদ বিরোধিতা করেন, তারেক সাহেবও একই কথা বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শরিয়া আইনে বিশ্বাস করেন না, তবে অন্তত মুখে যা বলেন, সেটাই স্পষ্টভাবে বলেন। এজন্য তাকে তিনি সৎ রাজনীতিবিদ হিসেবে অভিহিত করেন।
মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, জিয়াউর রহমান সর্বদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, আর শেখ মুজিবুর রহমান করেছিলেন বাকশাল। অথচ বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলই ক্ষমতার দাপট, চাঁদাবাজি আর খুনোখুনির রাজনীতি করছে। এমনকি বিএনপির অভ্যন্তরেই প্রায় ২০০ জন খুন হয়েছেন।
তিনি প্রতীক রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, নৌকা প্রতীক নিয়ে যারা ভোটে দাঁড়ায় তারা নৌকা চালাতে জানে না, ধানের শীষ প্রতীকধারীরা ধান কাটতে জানে না। এই প্রতীকগুলো গরিব মানুষের হলেও যারা প্রার্থী হয় তারা কেউ গরিব নয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী যুব আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মুহাম্মাদ জুবায়ের হোসাইন। প্রধান বক্তা ছিলেন ইসলামী যুব আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি মানসুর আহমাদ সাকী। এছাড়া বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ দ্বীন ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী আলহাজ মাওলানা মুফতি ইসমাঈল সিরাজী আল মাদানী ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী মুফতি মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।