ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে মুক্তিযুদ্ধকে অপমানের চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম খান।
সোমবার (২৫ আগস্ট) ডাকসু কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “ডাকসু হওয়ার কথা ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের, কিন্তু কে বা কারা ঢাবির দেয়ালে দেয়ালে ‘রাজাকার’ শব্দ প্রতিষ্ঠিত করে মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করেছে।”
আবিদুলের অভিযোগ, এফ রহমান হলকে ঘিরে বহু অনিয়মের অভিযোগ আছে এবং “গুপ্ত শিবির ও বাগছাসকে হলের প্রোভোস্ট পেট্রোনাইজ করছেন”। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ–আওয়ামী লীগের “বিচার যতক্ষণ না হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের অন্য মৌলিক অধিকার থাকলেও রাজনৈতিক অধিকার নেই।” একই সঙ্গে তিনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার অভিযোগ তোলেন।
অভিযানসংহিতা লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনি উমামা ফাতেমার নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, “একজন হেভিওয়েট ভিপি প্রার্থী মধ্যরাতে হলে হলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না—বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি সুস্পষ্ট করতে হবে।”
তার ভাষ্য, গুপ্ত সংগঠনগুলো জোনভিত্তিক ডামি প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে এবং প্রচারণাকালে তাদের ওপর মব আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া “জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির নারীদের নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে”—এমন অভিযোগও করেন তিনি; ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময় নারীদের বিষয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার অভিযোগ করে আবিদুল বলেন, “বিটিআরসিকে জানানো হলেও এখনও তা বন্ধ হয়নি।” তিনি যোগ করেন, “আগে ছাত্রলীগ গেস্টরুম–গণরুম চালাতো, এখন হলে হলে ‘মুড়িপার্টি’ কালচার চলছে; সেখানে গুপ্ত সংগঠনের প্যানেল সদস্যদের নাম মুখস্থ করানো হয়।”
তিনি ডাকসু নির্বাচনের অসঙ্গতি রাষ্ট্রীয়ভাবে সুরাহা এবং সমান সুযোগ–সুবিধা নিশ্চিতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ চান। অতীতে হামলা–হত্যা–অপকর্মে জড়িতদের বিচার বিবেচনা ছাড়া নির্বাচনী মাঠে সুযোগ দিলে অরাজকতার ঝুঁকি বাড়বে বলেও সতর্ক করেন।
এ প্রতিবেদন তৈরি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, এফ রহমান হল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।