বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের জন্য মূলত দায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো। তার মতে, এটি ছিল না কোনো সাধারণ রাজনৈতিক ঘটনা, বরং একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র—যার মূল নেপথ্য কুশীলব সেই ‘কালো শক্তি’ জামায়াত।
সম্প্রতি এক টেলিভিশন টকশোতে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আন্দোলন পরিচালনায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ফজলুর রহমানের দাবি, ছাত্রশিবির বহুদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“যারা ৫ আগস্ট ঘটাইছে, কালো শক্তি, সেই কালো শক্তির নাম হলো জামায়াতে ইসলাম, তাদের যে অগ্রগামী শক্তি তার নাম হইলো ইসলামি ছাত্রশিবির। সারজিস আলমরা, যারা ওই এইটার (অভ্যুত্থানের) অভিনয় করছে, ৫ আগস্টের অভিনেতা যারা, আমি তাদেরকে নেতা বলতে আর চাই না, তাদের আমি অভিনেতা বলব। সেই আলবদর, আল শামস, জামায়াতে ইসলাম আমরা মনে করেছিলাম ৫৪ বছর পর পূর্বপুরুষের পরাজয়ের গ্লানি তারা ভুলে গেছে। কিন্তু না, সেই পরাজয়ের গ্লানি দ্বিগুণ আকারে তাদের মধ্যে এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াত শুধু দেশীয় চক্রান্ত নয়, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাদের অর্থ-বিত্ত ও সংগঠন এখন এতটাই শক্তিশালী যে, তারা নিজেদের অনানুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতাসীন মনে করছে। তবে ফজলুর রহমানের দাবি, নির্বাচন মাধ্যমে জামায়াত কোনোদিনই ক্ষমতায় আসতে পারবে না, কারণ তাদের প্রধান প্রতিবন্ধক বিএনপি।
তার ভাষায়,
“তারা টাকা পয়সার মাধ্যমে তরুণ সমাজের যে কোনো একটা অংশকে কনভিন্স করে একটা শক্তি নিয়া সামনে আসছে। এবং সারা বাংলাদেশের এসিল্যান্ড, ইউএনও, পুলিশ, যা আছে ওপরের সচিব পর্যন্ত, বাংলাদেশের সব প্রশাসন তারা দখল করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, শেয়ার কোম্পানি, মার্কেট, হসপিটাল, বিশ্ববিদ্যালয়, সেখানের ছাত্রসংগঠন সবকিছু তারা দখল করে তারা এখন মনে করছে আমরা তো এখন আনঅফিশিয়াল ক্ষমতায় আছি, অফিসিয়াল ক্ষমতায় আমরা জীবনেও যেতে পারব না। কারণ ভোটের গোণায় আমরা আগে ছিলাম ৭%, এখন গেলে আরও ১% কমবে, কারণ, মানুষ বুঝে ফেলেছে যে তারা হলো রাজাকারের বাচ্চা, এরা ৫৪ বছর পরেও তারা রাজাকারের কুকীর্তি ভুলে নাই, তারা প্রতিশোধ নিতে চায়।”