মজনুর রহমান, মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ
সরকারি খাল বিল ও নদী নালা ইজারা দেয়া ও উম্মুক্ত জলাশয়ে পাট জাগ দিতে নিষেধ করায় কারণে যত্রতত্র সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দিচ্ছেন মেহেরপুরের পাট চাষিরা। পুকুর ও ডোবার পানিতে কাদামাটি আর কলাগাছ চাপা দিয়ে পাট পচানোর কারণে দুর্গন্ধে পরিবেশ হচ্ছে কলুষিত।
সেই সাথে জন্ম নিচ্ছে মশা মাছি। বাড়ছে রোগ বালাই। কৃষকরা বলছে, তারা বাধ্য হয়েই যত্রতত্র পাট জাগ দিচ্ছেন। আর কৃষি অফিস বলছে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষিরা পাট পচানোয় অভ্যস্ত নয়।
গাংনীর মরা নদীসহ কয়েকটি বিল বাওড় সরকারিভাবে লীজ দেওয়া হয়েছে। সেখানে পাট পঁচানো নিষিদ্ধ। ফলে পাট চাষিরা বিভিন্ন পুকুর ও ডোবা লীজ নিয়ে পাট পচাচ্ছেন। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় ব্যবহার করতে হচ্ছে স্যালো মেশিন।
এতে করে চাষিদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে এক থেকে দেড় হাজার টাকা। ফলে লোকসানের আশঙ্কা করছে পাট চাষিরা। তাছাড়া বাড়ির আশেপাশেও নীচু জায়গাতে পাট জাগ দেয়ায় দুর্গন্ধ চড়াচ্ছে। মশা মাছির প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে পাট পচানোর জায়গা।
অপরদিকে কলাগাছ, লতাপাতা আর কাদা দিয়ে পাট জাগ দেয়ার কারণে পাটের রং কালো হওয়ায় গুণগত মানও হারাচ্ছে। ফলে কাঙ্খিত মূল্য পাচ্ছেন না চাষিরা।
বানিয়া পুকুরের পাট চাষি আব্বাছ জানান, তিনি এবছর ১২ জমিতে পাট চাষ করেছেন। বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় বাড়ির পাশের পুকুর লীজ নিয়ে পাট জাগ দিয়েছেন। দূরের মাঠ থেকে পাট নিয়ে এসে পুকুর লীজ ও স্যালো মেশিন দিয়ে পানি দেয়াতে খরচ বেড়েছে দেড় থেকে দু হাজার টাকা।
মশা মাছি জন্ম নিচ্ছে আর দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এ কথা স্বীকার করে তিনি জানান, অর্থকারী ফসল পাট পচানোর বিকল্প পদ্ধতি তাদের জানা নেই তাই সনাতন পদ্ধতিতেই পাট পচাচ্ছেন তারা।
সিন্দুর কৌটা গ্রামের মোতালেব জানান, তিনি আট বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। মরা নদীতে পাট জাগ দেয়া নিষেধ তাই বাড়ির পাশে গর্ত করে পাট জাগ দিতে হয়েছে। মাঠ থেকে পাট এনে পাট পচাতে যে খরচ হচ্ছে তাতে বিঘা প্রতি খরচ বেড়ে দাড়াচ্ছে ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা। কিন্তু কাঙ্খিত মূল্য পাচ্ছেন তা চাষিরা।
ব্যবসায়িরা বলছেন, কাদা মাটি দিয়ে পাট জাগ দেয়ায় পাটের গুণগত মান কমে গেছে। কিন্তু কৃষি অফিসের পরামর্শে পাট পচাতে পলিথিন আর ইট বালি যোগাড় করতেও অনেক খরচ।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক এমকে রেজা জানান, পাট পচানোর কারণে দুর্গন্ধে পরিবেশ কলুষিত হবার পাশাপাশি মশা মাছি বংশ বৃদ্ধি করে। পানি বাহিত রোগের প্রাদূর্ভাব ঘটে। প্রবহমান জলাধারে পাট পচালে কোন প্রভাব পড়বে না প্রকৃতির উপর।
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান হোসেন জানান, জেলায় পাট চাষ হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। চাষিদেরকে পলিথিন ও ইট চাপা দিয়ে পাট জাগ দিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এতে করে পাটের মান গুণগত বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু চাষিরা অনেকটা অবহেলা করছে। তাছাড়া পানির অভাবেও অনেকে ছোটখাটো গর্তে পাটজাগ দিচ্ছে। কৃষি অফিস সব সময় তৎপর চাষিদের পরামর্শ দিতে।