শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

শেরপুরে রহস্যময় আগন্তুকদের আনাগোনা! আতঙ্ক ও ষড়যন্ত্রের শঙ্কা জনমনে

সেলিম রেজা, (বগুড়া) শেরপুর: সৌহার্দ্য সম্প্রীতি আর শান্তিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত বগুড়ার শেরপুর উপজেলা। সম্প্রতি এই উপজেলায় অপরিচিত ও রহস্যময় ব্যক্তিদের আনাগোনা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। বিষয়টি পৌর শহর থেকে গ্রামীণ জনপদে অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। দিনেরাতে বিভিন্ন বয়সী অচেনা মুখের আনাগোনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২১ আগস্ট ২০২৫, ১৭:৩২

সেলিম রেজা, (বগুড়া) শেরপুর:

সৌহার্দ্য সম্প্রীতি আর শান্তিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত বগুড়ার শেরপুর উপজেলা। সম্প্রতি এই উপজেলায় অপরিচিত ও রহস্যময় ব্যক্তিদের আনাগোনা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। বিষয়টি পৌর শহর থেকে গ্রামীণ জনপদে অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

দিনেরাতে বিভিন্ন বয়সী অচেনা মুখের আনাগোনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবুও এই পরিস্থিতিকে সম্ভাব্য বিপদের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন অনেকে। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে এই উদ্বেগের বাস্তব চিত্র পাওয়া গেছে।

পৌর শহরের বৈকাল বাজারের একজন চায়ের দোকানদার (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক), জানান, “গত বেশ কিছুদিন ধরে সন্ধ্যার পর কিছু অপরিচিত যুবককে তার দোকানের আশেপাশে মোটরবাইকে করে ঘুরতে দেখতে পাচ্ছে।

তারা নিজেদের মধ্যে নিচু স্বরে কথা বলে এবং আচমকা এসেই আবার দ্রুত চলে যায়। তাদের এই আচরণ খুবই সন্দেহজনক বলে তিনি জানান।

শাহবন্দেগী ইউনিয়নের সিএনজিচালক আশরাফ আলী জানান, “তিনি ভবানীপুর, রানীর হাট, চান্দাইকোনা রোডে সিএনজি চালান। প্রায়ই অনেক অচেনা যাত্রী ওঠেন, যারা গ্রামের বিভিন্ন নির্জন এলাকায় নেমে যান। যদিও তাদের আচরণে সন্দেহজনক কিছু সরাসরি চোখে পড়েনি।

অটোরিকশা চালক আমজাদ হোসেন বলেন, তিনি প্রায়ই অপরিচিত যাত্রী পায়, তবে তাদের সাথে সাধারণত একজন স্থানীয় লোক থাকে।

কিন্তু গত সপ্তাহে এক গভীর রাতে বাসস্ট্যান্ড থেকে বাক্স ও ব্যাগসহ দুই নারী ও দুই পুরুষকে দুটি রিকশায় করে উপশহরে নামিয়ে দিয়ে আসেন। তাদের আগে কখনো শেরপুরে দেখেনি। পুরো বিষয়টি তার কাছে বেশ সন্দেহজনক মনে হয়েছে।”

অটোরিকশা চালক দুলাল জানান, সে এখানকারই মানুষ। ইদানীং বিকেল হলেই বাসস্ট্যান্ড ও বাজারে এমন অনেক নতুন মুখ দেখে, যা আগে কখনো দেখেনি। তারা রিকশায় উঠে বিভিন্ন আবাসিক এলাকার বাসার সামনে নেমে যায়।”

আরেক অটোরিকশা চালক শাহআলী, যিনি রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত অটো চালান। তিনি জানান, “বেশিরভাগ অচেনা যাত্রীরা বাসস্ট্যান্ড ও ধুনটমোড় থেকে ওঠেন। তাদের আঞ্চলিক ভাষা শুনে সহজেই বুঝতে পারি, তারা শেরপুরের বাইরের লোক।”

এদিকে, এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও। তাদের মধ্যে এমন কথাও প্রচলিত আছে, বিগত বছরগুলোতে যারা অবৈধভাবে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছে, তারাই এই অচেনা ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন।

তবে কারণ যাই হোক, শেরপুরের শান্তি-শৃঙ্খলা যেন বিনষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করতে কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিছেন তারা।

শেরপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মুস্তাফিস নাসিম বলেন, “বহিরাগত লোক যদি থাকে সেইটা প্রশাসনের দেখা উচিৎ, কারন শেরপুরে যদি কোনো অপরিচিত লোকজন থাকে এবং তারা কোনো অপকর্ম করলে সেইটা শেরপুরের লোকজনের ওপর বর্তাবে। অন্য কোথাও অকারেন্স করে এসে শেরপুরে বসবাস করবে এইটা কাম্য নয়।”

শেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা জানে আলম খোকা, সম্প্রতি শেরুয়া বটতলা এলাকা থেকে আলাদীন নামে এক ছেলেকে হাত-পা বেঁধে তুলে নেওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “শেরপুরের শান্ত পরিবেশকে কেউ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

 তিনি এলাকাবাসীকে আত্মীয়-স্বজন ব্যতীত কোনো অপরিচিত ব্যক্তিকে আশ্রয় না দেওয়া এবং প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

শেরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম বাবলু বলেন,“বহিরাগত লোক বা অপরিচিত মুখের আনাগোনা আমার চোখে পড়ে নাই। তবে বিষয়টি অবগত হয়েছি।

বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ প্রশাসনকে তাদের নজরদারী বাড়ানোর জন্য আমি বলবো। সেক্ষেত্রে আমাদের সকল দল-মত নির্বিশেষে সজাগ থাকার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে করে কোন অপশক্তি আমাদের শেরপুরের শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে না পারে।”

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি),এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, “বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে দেখছি। পুরো উপজেলায় গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।

যেকোনো ধরনের নাশকতা মোকাবেলায় শেরপুর থানা পুলিশ প্রস্তুত আছে। আমরা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আশ্বস্ত করছি। তবে সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে সাথে সাথে পুলিশকে জানানোর জন্য অনুরোধ করছি।”

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।