ঋণখেলাপি মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রী নাজনীন মাওলা চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালত-১-এর বিচারক মো. হেলাল উদ্দীন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পাহাড়তলী শাখা থেকে নেওয়া ঋণ দীর্ঘদিন ধরে পরিশোধ করা হয়নি। ব্যাংকের কাছে থাকা বন্ধকি সম্পদ নিলামে বিক্রির চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। নিলামে ক্রেতার অনীহার কারণে ঋণ উদ্ধার সম্ভব না হওয়ায় ব্যাংকের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত আসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ঋণের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬০ কোটি ৭৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান আসলাম চৌধুরী। রাজনৈতিক জীবনে তিনি নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মোট ৭৬টি মামলা দায়ের করা হয়।
২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। একই বছরের ২৬ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের হয়।
ওই মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছিল যে, আসলাম চৌধুরী ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে যোগসাজশ করে বাংলাদেশ সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।
বর্তমান গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছেন বিএনপির এই বিতর্কিত নেতা। রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, মামলাটি কেবল আসলাম চৌধুরী নয়, বিএনপির জন্যও বড় ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।