ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (বিটিএ) নিয়ে বহু প্রতীক্ষিত ষষ্ঠ দফা বৈঠক স্থগিত হয়ে গেল। ২৫ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল দিল্লিতে আলোচনায় বসার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে সফর বাতিল করেছে তারা। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, উভয় দেশই যৌথভাবে বৈঠক স্থগিত করেছে এবং শিগগিরই নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
এই সিদ্ধান্ত এল এমন এক সময়, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর ফলে ভারতের বড় রপ্তানি খাতগুলো বিশেষ করে শ্রমনির্ভর টেক্সটাইল শিল্প মারাত্মক ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আগেও ভারত-যুক্তরাষ্ট্র মিনি ট্রেড ডিল করতে ব্যর্থ হয়েছিল। মূল জটিলতা দেখা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যে শুল্ক কমানোর চাপের কারণে, যা ভারত সোজাসুজি প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— তারা জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (জিএম) খাদ্যপণ্যের আমদানি অনুমোদন দেবে না।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৫ আগস্ট লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,
“দেশের কৃষক, পশুপালক ও জেলেদের স্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর কোনো নীতির সামনে আমি দেয়াল হয়ে দাঁড়াবো।”
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, মার্কিন কর্মকর্তারা মৌখিকভাবে সফরে অক্ষমতার কথা জানিয়েছে। এর ফলে আলোচনার গতি সাময়িকভাবে থেমে গেলেও দুই দেশ নতুন তারিখে বৈঠক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চলতি বছরের মার্চে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা শুরু হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে প্রথম ধাপ শেষ করা। ইতিমধ্যে একাধিক ভার্চুয়াল বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে, তবে বড় ধরনের অগ্রগতি আসেনি।
ভারতের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে মোবাইল ফোন, কাট-অ্যান্ড-পলিশড রত্নপাথর, টেক্সটাইল ও ওষুধ রয়েছে। কিন্তু ৫০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কার্যকর হলে বিশেষ করে টেক্সটাইল খাত এবং ছোট রপ্তানিকারকরা বাজারে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।
বুধবার প্রধান রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেন,
“রপ্তানিকারকদের মনোবল চাঙা রাখা এখন জরুরি। সবাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে এবং বিকল্প বাজার খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ভারতের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। এই অবস্থায় বিটিএ আলোচনার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?