বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আজ ৮১তম জন্মদিন। একসময়ের সাধারণ গৃহবধূ নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের রাজনীতির আপোষহীন নেত্রী ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক। তার জন্মদিন উপলক্ষে এবং দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনায় দেশজুড়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন হয়েছে। দলীয় প্রধানের নির্দেশ অনুসারে গত কয়েক বছরের মতো এবারও কেক না কেটে এই দিন উদযাপন করছে দলীয় নেতাকর্মীরা।
১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়ার পৈত্রিক নিবাস ফেনীর ফুলগাজীতে। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি চতুর্থ। বাবা এস্কান্দার মজুমদার ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার ছিলেন গৃহিণী। বাবার কর্মস্থল দিনাজপুরেই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর।
প্রথমদিকে রাজনীতিতে আসার প্রতি পারিবারিক উৎসাহ না থাকলেও, দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধে তিনি চমকপ্রদভাবে রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন এবং একই বছরের ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে প্রথম রাজনৈতিক বক্তব্য দেন।
১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আশির দশকে এরশাদবিরোধী গণআন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তার দৃঢ় ভূমিকার জন্যই তিনি “আপোষহীন নেত্রী” উপাধি পান।
২০১৬ সাল থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা ১৫ আগস্ট কেক না কেটে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে দিনটি পালন করছে। গত কয়েক বছর ধরে অসুস্থতার কারণে তিনি গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’-তে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে আছেন। চার মাস চিকিৎসা শেষে গত ৬ মে তিনি লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন। দীর্ঘ সময় পর গত ১০ মে দুই পুত্রবধূকে নিয়ে ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের বাসায় যান তিনি।
২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর আওয়ামী লীগ পতনের পর সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনায় প্রকাশ্যে দেখা যায় খালেদা জিয়াকে। বর্তমানে তিনি লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ফুসফুস ও কিডনি জটিলতা, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ একাধিক জটিল রোগে ভুগছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি এখনো দেশের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে সমানভাবে আলোচনায় রয়েছেন।