ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিরোধীদের তীব্র বিক্ষোভে টালমাটাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিরোধী দলগুলোর এমপিরা বিহারের নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে একযোগে প্রতিবাদে নামে।
সোমবার (১১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় দিল্লির সংসদ ভবনের মকর দ্বার থেকে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের এমপিরা পদযাত্রা শুরু করে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়, নির্বাচন সদনের উদ্দেশ্যে। পথে পরিবহন ভবনের সামনে পৌঁছালে দিল্লি পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং অনুমতি ছাড়া পদযাত্রা করার অভিযোগ তোলে। এ সময় রাহুল গান্ধি ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধি ভাদ্রাকে আটক করে পুলিশ, আর অখিলেশ যাদবকে ব্যারিকেড টপকে যেতে দেখা যায়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিহারের নির্বাচনী তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয়, এতে ইচ্ছে করে তথ্য গোপন করা হচ্ছে। রাজ্যসভায় আরজেডি এমপি মনোজ ঝা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আপনারা (ইসি) শ্রেণিবদ্ধ তথ্য দিচ্ছেন না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও জেদ বজায় রেখেছেন। এটি ভোট জালিয়াতিরই অংশ।”
লোকসভায় অধিবেশন শুরু হতেই কংগ্রেস ও বিরোধী এমপিরা স্লোগান দিতে থাকেন এবং প্ল্যাকার্ড দেখান। স্পিকার ওম বিরলা প্রশ্নোত্তর পর্ব চালানোর চেষ্টা করলেও মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই তা ভেঙে পড়ে। বিরোধীদের অভিযোগ, বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসির এই সংশোধন প্রক্রিয়া প্রকাশ্য পক্ষপাতদুষ্টতা। টানা ১৪ দিন ধরে বিরোধীদের স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের ফলে অধিবেশন ব্যাহত হওয়ায় স্পিকার ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।
রাজ্যসভাতেও একই চিত্র দেখা যায়। কার্যক্রম শুরু হতেই বিরোধীরা স্লোগান দিতে থাকে। ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ ২৯টি নোটিশ খারিজ করে দেন, এরপর রাজ্যসভাও মুলতবি হয়।
পদযাত্রা চলাকালে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি মহুয়া মৈত্র হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করেন। একইভাবে তৃণমূলের আরেক এমপি মিতালি বাগও ভিড় ও প্রচণ্ড গরমে পড়ে যান।
বিরোধী দলগুলো ঘোষণা করেছে, বিহারের নির্বাচনী তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশন যেন নিরপেক্ষভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে এবং সব তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?