রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

রাজনৈতিক মেরুকরণের পথে পবিপ্রবি প্রশাসন, শিক্ষকদের পদলালসায় হতাশ শিক্ষার্থীরা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র–জনতার আন্দোলনের পর যখন নতুন প্রত্যাশায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এগিয়ে চলার কথা, তখন পুরনো নিয়মেই চলছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি)। ক্ষমতার পালাবদলে কেবলমাত্র চেয়ারেরই রূপান্তর হয়েছে। আদতে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। শিক্ষকদের মধ্যকার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রতিযোগিতা হতাশ করেছে শিক্ষার্থীদের। যেখানে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, সেখানে শিক্ষকরা […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১০ আগস্ট ২০২৫, ১৩:৪৯

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র–জনতার আন্দোলনের পর যখন নতুন প্রত্যাশায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এগিয়ে চলার কথা, তখন পুরনো নিয়মেই চলছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি)। ক্ষমতার পালাবদলে কেবলমাত্র চেয়ারেরই রূপান্তর হয়েছে।

আদতে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। শিক্ষকদের মধ্যকার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রতিযোগিতা হতাশ করেছে শিক্ষার্থীদের।

যেখানে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, সেখানে শিক্ষকরা আছেন পদবি পাওয়া কিংবা না–পাওয়া নিয়ে এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায়।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা শাখার পরিচালকের পদবি না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দেন। পাশাপাশি তিনি প্রশাসনের তীব্র সমালোচনাও করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রশাসন ‘জামায়াতীকরণ’ করেছে— এমন অভিযোগ তোলেন তিনি।

তার এই মন্তব্যের পরেই বিশ্ববিদ্যালয় মহলে শুরু হয় আলোচনা–সমালোচনা। প্রশাসন কি তবে শিক্ষার মান নিশ্চিতের চেয়ে বরং বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক মেরুকরণের দিকেই ঝুঁকাচ্ছে— এমন প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার্থীদের মনে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান প্রধান পদগুলোতে রাজনৈতিক শিক্ষকদের আধিপত্য রয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ পদই বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের দখলে, বাকি ২০ শতাংশ রয়েছে জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের হাতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ২৯টি পদের অনুসন্ধানে এমন পরিসংখ্যান পাওয়া যায়— যেখানে ২৩টি পদে বিএনপিপন্থী ও ৬টি পদে জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের দখলকৃত পদগুলো হলো— বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস–চ্যান্সেলর, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের ডিন,

ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ডিন, রিজেন্ট বোর্ড সদস্য–১, রিজেন্ট বোর্ড সদস্য–২, রিজেন্ট বোর্ড সদস্য–৩, পোস্ট–গ্রাজুয়েট স্টাডিজের ডিন, পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক,

কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের পরিচালক, পিএসটিইউ ইনোভেশন ডিসেমিনেশন সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত, শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক,

পরিবহন কর্মকর্তা, শহীদ জিয়াউর রহমান হল–১-এর প্রভোস্ট, শহীদ জিয়াউর রহমান হল–২-এর প্রভোস্ট, কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রভোস্ট, বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট, সুলতানা রাজিয়া হলের প্রভোস্ট এবং সৃজনী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক।

অন্যদিকে জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা রয়েছেন— ট্রেজারার, আরটিসির পরিচালক, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা শাখার পরিচালক, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ডিন, আইসিটি সেলের পরিচালক, এম. কেরামত আলী হলের প্রভোস্ট এবং তাপসী রাবেয়া বসরী হলের প্রভোস্ট হিসেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক মামুন-অর-রশিদ ‘জামায়াতীকরণ’ প্রসঙ্গে বলেন,

“ইউট্যাবের কেউ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতীকরণ হচ্ছে— এমন বক্তব্য দিয়েছে কিনা আমার জানা নেই। যদি দিয়ে থাকে, তা কেন দিয়েছে সেটি আলোচনার বিষয়। আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করবো।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থী শিক্ষক ও গ্রীন ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মামুন-উর-রশিদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে সমস্ত দায়িত্ব ও বিভিন্ন কমিটিতে একটি রাজনৈতিক দলের একচ্ছত্র অংশগ্রহণেই চলছে সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রম।

কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের বলয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ও দায়িত্ব বণ্টন হওয়া উচিত যোগ্যতা এবং নৈতিকতার মানদণ্ডে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস–চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি সবসময় চেষ্টা করেছি যোগ্যতম শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে যোগ্যতম জায়গায় পদায়ন করতে।

আর এই যোগ্যতার পদায়নই হলো সর্বশেষ ছাত্র–নির্দেশনা শাখার পরিচালকের নিয়োগ। আমার প্রশাসন দল ও আদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সঠিক ব্যক্তিকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে নিয়োগ দেয়— সেটির উদাহরণ হলো সর্বশেষ শিক্ষক নিয়োগ, যেখানে ১৬ জনের মধ্যে বেশিরভাগেরই কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই।”

আপনার নিয়োগকৃত যোগ্য শিক্ষক–কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও তো বিভিন্ন সময় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে— এ প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, “আমার নিয়োগের পর অল্প সময় পেয়েছি সবাইকে বোঝার জন্য।

বাইরে থেকে তো আর সবাইকে সমানভাবে চেনা যায় না। কোনো চেয়ারে বসার পরই আসল চরিত্র ফুটে ওঠে। তবে আমার প্রশাসন এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সবসময় ব্যবস্থা নিচ্ছে।”

এসময় তাকে কোনো বিশেষ দলের রাজনৈতিক মেরুকরণ হচ্ছে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যে ২৯টি পদের ব্যাপারে প্রশ্ন আছে, সেগুলোর বেশিরভাগই পদায়ন করা হয়েছে আমার নিয়োগের আগে।

তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে ছিলেন বর্তমান প্রোভিসি অধ্যাপক হেমায়েত জাহান। এ ব্যাপারে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।”

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।