জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত বর্ধিত কমিটি ও হল কমিটিগুলো নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিবাহিত শিক্ষার্থী, ছাত্রত্ব হারানো সাবেক শিক্ষার্থী, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মী, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী, মাদক সেবন ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে শাস্তিপ্রাপ্তরা, এমনকি হত্যা মামলার আসামিও।
গত ৮ আগস্ট কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতৃত্বে ৩৭০ সদস্যের বর্ধিত কমিটি ও ১৭টি হলের ৮৮ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ক্যাম্পাসে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে-
বিবাহিত শিক্ষার্থীকে সভাপতি
শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ হল ছাত্রদলের সভাপতি করা হয়েছে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৫১ ব্যাচের বিবাহিত শিক্ষার্থী ফিরোজ আহমেদ পাপনকে। ছাত্রদলের দীর্ঘদিনের অনুশীলনে বিবাহিতদের পদায়নের নজির নেই। অভিযোগ উঠেছে, লবিং ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পদ বণ্টন হয়েছে।
ছাত্রলীগ নেত্রী হলেন ছাত্রদল সভাপতি
রোকেয়া হলের সভাপতি হয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের ৫০ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী কাজী মৌসুমি আফরোজ, যিনি আগে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মিছিল ও কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন।
ছাত্রলীগ কর্মী সাংগঠনিক সম্পাদক
নজরুল হলের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৫১ ব্যাচের ছাত্রলীগ কর্মী রাকিব মাওলা।
ছিনতাইয়ের দায়ে বহিষ্কৃত সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী
২১নং হলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন পরিসংখ্যান বিভাগের ৫১ ব্যাচের ইমরান নাজিজ, যিনি ২০২৩ সালের মার্চে বহিরাগত শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।
ছাত্রত্ব নেই অথচ সভাপতি
মওলানা ভাসানী হলের সভাপতি করা হয়েছে ইংরেজি বিভাগের ৪৬ ব্যাচের ফেরদৌস রহমানকে, যিনি ইতোমধ্যে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন এবং বৈধ ভোটার তালিকাতেও নেই।
পোষ্য কোটায় ভর্তি, হলের শিক্ষার্থী নন
সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫০ ব্যাচের রাজিব হোসাইন অপি হলের শিক্ষার্থী না হয়েও মওলানা ভাসানী হলের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন।
মাদক সেবনের দায়ে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ কর্মী
তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৫১ ব্যাচের শিপন হোসেন, যিনি বান্ধবীসহ মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক হয়ে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন, তাকে ছাত্রদলের সদস্য করা হয়েছে।
হত্যা মামলার আসামি
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ছাত্রলীগের শামীম মোল্লা হত্যার মামলার তিন পলাতক আসামি-হামিদুল্লাহ সালমান, রাজু আহমেদ ও মোহাম্মদ রাজন মিয়াকে কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।
অন্য বিতর্কিত পদাধিকারী
ফজিলাতুন্নেছা হলের সাধারণ সম্পাদক সাবরিনা সুলতানা সুরভী, ২১নং হলের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ রিমন, সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান সীমান্ত-সকলেই ছাত্রলীগের মিটিং-মিছিলে অংশ নিয়েছেন।
এছাড়া, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মো. শাকুর বাপ্পী, মাদকসহ আটক সতীর্থ বিশ্বাস বাঁধন এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগে বহিষ্কৃত ইমরান নাজিজও কমিটিতে রয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তারা স্বীকার করেছেন যে যাচাই-বাছাইয়ের পরও বিতর্কিত কয়েকজন থেকে যেতে পারে।
ঘোষিত কমিটিতে এত সংখ্যক বিতর্কিত ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা, যোগ্যতা নির্ধারণ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ক্যাম্পাসের অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, এই ধরনের পদায়ন সংগঠনের ভাবমূর্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।