বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন মানুষেরা যখন ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যা নিয়ে নীরবতায় লিপ্ত, তখন দাঁতভাঙা ভাষায় রাফাহ সীমান্তের অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি তুলেছেন দুই আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মী—মিরিয়ম চারাবাতি ও শারলোত কিতস। তাদের আহ্বান, “রাফার দেয়াল ভেঙে ফেলো!”—এটা কোনো আবেদন নয়, এটা এক ঐতিহাসিক ডাক, এক প্রত্যক্ষ প্রতিরোধের আহ্বান।
“হাতে হাত রেখে রাফা পর্যন্ত”
শিরোনামে গড়ে ওঠা এই আন্তর্জাতিক ক্যাম্পেইনটি মূলত মিশরের জনগণকে আহ্বান জানায়, তারা যেন গাজার বুকে রাফাহ সীমান্তে চাপিয়ে দেওয়া নিষ্ঠুর ইসরায়েল-মিশরীয় অবরোধ ভেঙে দেয়। ২২ মাস ধরে চলমান ইসরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে এই দুই মানবাধিকারকর্মীর যৌথ বিবৃতি কেবল একাত্মতা নয়, বরং তা এক রণচণ্ডীর উচ্চারণ।
বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট বলেন—মিশর সরকারের তাকফিরি ভীতিনীতির কারণে ইসরায়েলের গণহত্যার বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নিতে পারছে না কায়রো। প্রশ্ন তোলেন—
“কোথায় কায়রোর স্বাধীনতা?”
তারা বলেন, আরব জাতিগুলো যখন নিজের প্রতিবেশী ফিলিস্তিনিদের পক্ষে দাঁড়াতে পারে না, তখন তাদের কূটনীতি আর স্বাধীনতার ভাষ্য কেবলই প্রহসন।
দুই কর্মী, যাদের মধ্যে একজন ২০০৯ সালেও মিশরীয় সরকারকে সরাসরি রাফাহ খুলে দিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন, বলেন—
“আমরা জানি এই পথ সহজ নয়, কিন্তু অপমান মেনে নেওয়ার চেয়ে কঠিন পথ বেছে নেওয়া শ্রেয়।”
তারা গাজার সাংবাদিকদের সাহসের প্রশংসা করে বলেন,
“এই জাতি ফিলিস্তিন নামে পরিচিত, এই পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা ব্যর্থ হবে।”
তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে একটি বাস্তবতা—ইসরায়েল যে নির্মূলযুদ্ধ চালাচ্ছে, তা নিয়ে আজকের দুনিয়ার মানুষের আর অজানা কিছু নেই। তবুও যখন একের পর এক মুসলিম ও আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করছে, তখন তা মানবতার মুখে জুতার বাড়ি ছাড়া কিছু নয়।
বিবৃতির শেষাংশে এই দুই অধিকারকর্মী ফের আবেদন করেন—
“মিশরের জনগণই পারে রাফাহ অবরোধ ভেঙে মানবতার মুক্তির পথ খুলে দিতে।”
তারা মনে করেন, মিশরের ভেতরে এখনো সেই জাগরণের শক্তি রয়েছে, যা একদিন ইসরায়েলের হাতের ক্রীড়ানক মিশর সরকারকে বদলে দিতে পারে।
এই বিবৃতি কেবল দুজন মানুষের বক্তব্য নয়, বরং এটি এক নীরব বিশ্বকে চপেটাঘাত করার মত এক জাগরণ, এক প্রতিবাদ, এক আদেশ—“হাতে হাত রেখে রাফার দেয়াল ভাঙো, এখনই!”
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?