মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতি, অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ এবং বাণিজ্যিক হুমকির ফলে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই চাপে পড়ে গেছে। এমনকি ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও বাদ যায়নি ট্রাম্পের ‘শুল্কের রোষানল’ থেকে। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্রের এসব চাপ ও হুমকিকে পাত্তা না দিয়ে একজোট হতে যাচ্ছে তিন মহাশক্তি—রাশিয়া, চীন ও ভারত।
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখায় সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে আবারও ২৫ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় রুশ প্রশাসনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “আমরা এই ধরনের হুমকিকে বৈধ মনে করি না।
প্রতিটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বাধীনভাবে বাণিজ্যসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে।” যদিও ভারতের নাম সরাসরি বলা হয়নি, তবে রাশিয়ার অবস্থান যে ভারতের পক্ষে, তা স্পষ্ট।
এমন সময়েই দীর্ঘ ছয় বছর পর চীন সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিতব্য সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন তিনি।
একই সম্মেলনে যোগ দেবেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও। এ সফরের পেছনে রয়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ, বাণিজ্য এবং সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের একপাক্ষিক নীতি এবং উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে নয়াদিল্লি বিকল্প পথ খুঁজছে। সেই বিকল্প হচ্ছে—চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো।
গত অক্টোবরে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে মোদি ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক হয়। তারপর থেকেই ভারত-চীন সম্পর্কের বরফ কিছুটা গলতে শুরু করে। এবার সম্মেলনে সেই সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং আঞ্চলিক সমীকরণ পুনর্নির্ধারণের নতুন দিক উন্মোচন হতে পারে।
বিশ্ব রাজনীতিতে এই মুহূর্তে যে নতুন মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে, তাতে রাশিয়া, চীন ও ভারতের একযোগে অবস্থান ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতের বিশ্বব্যবস্থায় ভারসাম্যের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?