চলতি সপ্তাহেই দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক দ্য ডন।
সরকারি একাধিক সূত্র জানায়, এই সফরটি মূলত সৌজন্যমূলক হলেও এর ভেতর লুকিয়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা। বিশেষ করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান জেনারেল মাইকেল এরিক কুরিলার ইসলামাবাদ সফরের জেরেই এবার পাল্টা আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন পাক সেনাপ্রধান।
এটি আসিম মুনিরের দ্বিতীয় যুক্তরাষ্ট্র সফর। এর আগে গত জুনে ওয়াশিংটন সফরের সময় তাকে হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয়—যেখানে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে স্বাগত জানান।
এমন উচ্চপর্যায়ের সম্মান একজন সেনাপ্রধানের ক্ষেত্রে বিরল এবং তা আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক তাৎপর্য বহন করে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এদিকে, এই সফরের পেছনে আরও বড় একটি বার্তা উঠে এসেছে মার্কিন কংগ্রেসে সেন্টকম প্রধানের বক্তব্যে। কংগ্রেসের শুনানিতে তিনি পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে অসাধারণ অংশীদার’ বলে উল্লেখ করেন।
এর মাধ্যমে বোঝা যায়, আফগানিস্তান, চীন-ভারত প্রতিযোগিতা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে ইসলামাবাদ এখনো ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মাত্র মাসখানেকের ব্যবধানে পাক সেনাপ্রধানের দুটি যুক্তরাষ্ট্র সফর ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ, দিল্লির ধারণা অনুযায়ী, এই সফরের মাধ্যমে পাকিস্তান নিজেকে আবারো ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ বলয়ে ফিরিয়ে আনছে।
বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির টানাপড়েন, এবং ভারত-পাকিস্তানের চারদিনের যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার দাবিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক দূরত্বও প্রেক্ষাপটকে জটিল করে তুলেছে।
এই সময়েই পাকিস্তানে নতুন করে গুঞ্জন ওঠে সেনাপ্রধান আসিম মুনির রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। যদিও দেশটির সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি স্পষ্টভাবে এই দাবি অস্বীকার করেছেন।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসিম মুনিরের এই সফর কেবল একটি সামরিক কৌশল নয়—বরং ভবিষ্যতের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে পাকিস্তানের অবস্থান নতুন করে সংজ্ঞায়িত হতে যাচ্ছে। যার ছায়া শুধু ইসলামাবাদে নয়, পড়বে দিল্লির ওপরও।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?