জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাঁচ শীর্ষ নেতার আকস্মিক কক্সবাজার সফর ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তাদের উপস্থিতি, বিলাসবহুল রিসোর্টে ওঠা, আবার হঠাৎ হোটেল পরিবর্তন—এই পুরো ঘটনা গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে তাৎক্ষণিকভাবেই।
৫ আগস্ট দুপুরে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে কক্সবাজার পৌঁছান এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডা. তাসনিম জারা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। সোজা চলে যান ইনানীর বিলাসবহুল ‘রয়েল টিউলিপ’ রিসোর্টে। পরদিন আচমকা সেখান থেকে বের হয়ে কলাতলীর শালিক রেস্টুরেন্টে মধ্যাহ্নভোজ সেরে ওঠেন ‘প্রাসাদ প্যারাডাইস’ হোটেলে—যা আরও বাড়িয়ে দেয় কৌতূহল।
এই সফরকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তোলে একটি গুজব—সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে গোপন বৈঠকের সম্ভাবনা। গুজব ছড়ানোর পরপরই ডিজিএফআই ও এনএসআই-সহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা নড়েচড়ে বসে। রিসোর্টে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করে বিশ্লেষণও করা হয়। তবে হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো বিদেশি প্রবেশ কিংবা বৈঠকের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকেও পাঠানো হয়েছে কারণ দর্শানোর নোটিশ। ৫ আগস্টের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনে দলের অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত সফরে যাওয়ায় নেতাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারাও বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন।
কক্সবাজার পুলিশ বলছে, প্রাসাদ প্যারাডাইসে অবস্থানরত এসব নেতার নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখনো পরিষ্কার নয়—এই সফরের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কূটনৈতিক সংযোগ বা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির অংশ হিসেবেও এই সফর হতে পারে।
সবকিছু মিলিয়ে এনসিপি নেতাদের এই সফর শুধু কৌতূহল নয়—এক ধরনের রাজনৈতিক অস্বস্তিও তৈরি করেছে। এখন সবার দৃষ্টি প্রাসাদ প্যারাডাইস হোটেলের দিকেই, কারণ এখান থেকেই হয়তো উন্মোচিত হতে পারে বড় কোনো রাজনৈতিক অধ্যায়।