ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ‘জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবিরের আয়োজনে একের পর এক ঘটনা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে টিএসসির দেয়াল।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) প্রথমে শিবিরের প্রদর্শনীতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতা গোলাম আজম, নিজামী, মুজাহিদ, সাঈদী, মীর কাশেম ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি টাঙানো হয়। বিষয়টি ঘিরে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর তীব্র আপত্তি ও বিক্ষোভ দেখা দেয়।
চাপে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রক্টরিয়াল টিম ছবিগুলো সরিয়ে ফেলে। তবে বিতর্ক থামেনি।
বুধবার (৬ আগস্ট) একই স্থানে নতুন করে শিবির টাঙিয়েছে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ঘিরে ‘স্কাইপ কেলেঙ্কারি’, বেগম খালেদা জিয়ার মন্তব্য, আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ জিওফ্রে রবার্টসন ও সাবেক বিচারপতি সুরঞ্জন বালির সাক্ষাৎকারভিত্তিক পোস্টার।
শিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান করি। স্কাইপি কেলেঙ্কারি আসলে কীভাবে বিচার ব্যবস্থাকে কলুষিত করেছে, তা আজও প্রাসঙ্গিক।”
তিনি আরও বলেন, “যেভাবে গতকাল শাহবাগীরা মব সন্ত্রাস চালিয়েছে, তাতে স্পষ্ট—তারা বিচারিক হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা করছে।”
বামপন্থিদের পক্ষ থেকে এই প্রদর্শনীর প্রতিবাদ জানানো হলেও, শিবিরের অবস্থান থেকে বলা হচ্ছে, তাদের লক্ষ্য ইতিহাসের বিকৃত উপস্থাপনা রোধ করা এবং কথিত বিচারিক অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সত্য তুলে ধরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।