পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে আজ (মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট) ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজন করা হয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও বিশেষ মোনাজাতের।
দিবসের শুরুতেই সকালে হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জুলাই আন্দোলনে শহীদ ছাত্র-জনতাকে স্মরণ করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার বাণী পাঠ করা হয়।
তথ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিবরণীতে জানানো হয়, হাইকমিশনার তার বক্তব্যে বলেন—“রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে বৈষম্যমুক্ত, জনকল্যাণমুখী এবং জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করার মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে গণআন্দোলনের পটভূমি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং ছাত্র-জনতার বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার স্মৃতি তুলে ধরা হয়।
এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন মিশনের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তারা জুলাই আন্দোলনের তাৎপর্য এবং নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে এর ভূমিকা নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ভাবনা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতি ও উন্নয়নের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য ছাড়াও স্থানীয় পাকিস্তানিরাও অংশ নেন, যা প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।