সাভারে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সাঁজোয়া যান (এপিসি) থেকে টেনে-হিঁচড়ে শিক্ষার্থী শাইখ আশহাবুল ইয়ামিনকে ফেলে দিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআই মোহাম্মদ আলীকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনুর কবির এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, এএসআই মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার সকাল ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন মুরাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ জুলাই সাভারে চলমান ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে এমআইএসটি-এর কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী শাইখ আশহাবুল ইয়ামিনকে জোরপূর্বক টেনে ফেলে দেওয়া হয়, এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়, যা দেশজুড়ে নিন্দা ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। নিহত ইয়ামিন রাজধানীর মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (MIST) ছাত্র ছিলেন এবং ওসমানী হলে থাকতেন। তার স্থায়ী ঠিকানা ছিল সাভারের ব্যাংক টাউন আবাসিক এলাকায়।
এই ঘটনার বিচার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তপ্ত ছিল সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গন। অবশেষে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের গ্রেপ্তারে ইয়ামিনের সহপাঠী ও আন্দোলনকারীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
অবশ্য, অনেকে বলছেন—এই গ্রেপ্তার যেন কেবল লোক দেখানো না হয় বরং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।