শেকৃবি প্রতিনিধি
আগস্ট মাসকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে পরিকল্পিত সহিংসতার ছক আঁকার অভিযোগে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের তিন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। গোপনে ক্যাম্পাসে অবস্থান করে তারা গুপ্ত নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। তবে, আটককৃতদের মধ্যে একজনকে রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেওয়ায় উঠেছে টাকার লেনদেন ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ, যা নতুন করে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, আবাসিক হলে গোপনে অবস্থান করছিলেন কিছু সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতা। তারা নিয়মিত জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে আগস্টকে ঘিরে সহিংস পরিকল্পনা করছিলেন এবং ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে অবস্থান করছিলেন।
ছাত্রদল নেতা শরিফ জানান, “কিছুদিন ধরেই আমরা তাদের গতিবিধি নজরে রাখছিলাম। তারা সেকেন্ড গেটের চায়ের দোকানে আড্ডা দিতো, এবং ঢাকায় কোনো গোপন কর্মসূচি থাকলে হলে এসে অবস্থান করতো। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা রুমে যাই এবং প্রক্টরকে জানালেও তিনি আসেননি। পরে পুলিশে খবর দিলে তারা তিনজনকে জিম্মায় নেয়।”
আটক হওয়া ছাত্রলীগ নেতারা হলেন:
মীর আসাদ আল রহমান সায়েম
তৌফিক ই মওলা
আল সাদি পিয়াল
তবে পরে দেখা যায়, পুলিশের হাতে থাকা সত্ত্বেও আল সাদি পিয়াল ‘অদৃশ্য কারণে’ ছাড়া পেয়ে যান। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, প্রভাবশালী মহলের তদবির ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করা হয়েছে।
শরিফ বলেন,
“তিনজনকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও পরে দেখি মাত্র দুইজনকে আটক দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে আমরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।”
শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মোফাজ্জল হোসেন বলেন,
“ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের হাতে দুইজন ছাত্রলীগ নেতাকে তুলে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ঝটিকা মিছিল ও অপতৎপরতার অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত চলছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগ নেতা পরশ, পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং মসিউর রহমান হুমায়ূনের প্রত্যক্ষ নির্দেশে ক্যাম্পাস ও আশপাশে গুপ্ত হামলার ছক কষা হচ্ছিল। একইসঙ্গে, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ফেসবুক পেইজ ও গ্রুপে তারা সরকারের পক্ষে অপপ্রচার চালায় এবং ছাত্রলীগ বিরোধিতাকারী শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে আসছিল।
আটকের পরও ছাত্রলীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে গ্রেফতার হওয়া নেতাদের পক্ষে পোস্ট দেওয়া হয়, যা ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।