যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নে সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র নারীদের জন্য বরাদ্দ চাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান নেদার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার রামপুর ধলদা গ্রামের মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের হস্তক্ষেপে ভুক্তভোগীরা ছয় বস্তা চাল ফেরত পেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিডব্লিউভি কর্মসূচির আওতায় তালিকাভুক্ত প্রতিটি নারীকে তিন বস্তা করে চাল দেওয়া হয়েছিল। নারীরা ভ্যানে করে চাল বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পথে ধলদা মোড়ে ইয়ানুর, মিজানুর বিশ্বাস, মশিয়ার ও রফিকুল নামের কয়েকজন পথ আটকে জোরপূর্বক চালের একটি অংশ ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয়দের দাবি, তারা সবাই শার্শা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আমিনুর রহমান নেদার অনুসারী।
ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন,
“ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তিন বস্তা করে চাল পেয়েছিলাম। কিন্তু ধলদা মোড়ে পৌঁছালে তারা পথ আটকে বাধ্য করে এক বস্তা দিয়ে আসতে হয়েছে। কেউ কিছু বললে গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেয়।” আরেকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার যে সহায়তা দিচ্ছে, সেটাও যদি ভয় দেখিয়ে কেড়ে নেয়, তাহলে আমরা যাব কোথায়? গরিবের মুখের খাবারটুকুও লুটে নিচ্ছে ওরা।”
উলাশী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আব্দুর রাশেদ নিশ্চিত করেছেন যে নারীদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া চালের মধ্যে ছয় বস্তা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহীর জানান, তিনি ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন না। তিনি বলেন,
“বিএনপি এসব প্রশ্রয় দেয় না। যদি কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়, সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্তদের কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করলেও চাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। শার্শা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আমিনুর রহমান নেদা বলেন,
“অভিযুক্তরা কেউ আমার লোক নয়, কেবল বিএনপি পরিবারের সদস্য। তাদের দলে কোনো পদও নেই।”
তিনি আশ্বাস দেন, ঘটনার সত্যতা পেলে পুলিশকে সহযোগিতা করে অপরাধীদের ধরানো হবে।
শার্শা থানার ওসি কে এম রবিউল ইসলাম জানান, এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তিনি বলেন,
“পুলিশি অভিযানের খবর পেয়ে অভিযুক্তরা নারীদের চাল ফেরত দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। বিস্তারিত জানতে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।”