সংস্কার প্রস্তাবের আইনি ভিত্তি না থাকলে তা কার্যকর হবে না এবং জনগণের কাছেও এর কোনো গুরুত্ব থাকবে না—এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই পরিস্থিতিতে জামায়াত সনদে স্বাক্ষর করবে না।
ডা. তাহের বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার মাধ্যমে যেসব সংস্কার প্রস্তাবে একমত হওয়া গেছে, সেগুলো যদি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে দেশে একটি গুণগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। কিন্তু মঙ্গলবার কমিশনের পক্ষ থেকে যেভাবে সনদের খসড়া পাঠানো হয়েছে, তা দেখে তিনি হতাশ। সেখানে বলা হয়েছে, দুই বছরের মধ্যে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা হবে, কিন্তু সরকারের মেয়াদ কিংবা কমিশনের এখতিয়ার সম্পর্কে কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “এই সরকার কি তাহলে আরও দুই বছর ক্ষমতায় থাকতে চায়? যদি এসব বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান সরকারের হাতে না থেকে ভবিষ্যতের কোনো সরকারের হাতে থাকে, তাহলে এতদিনের প্রচেষ্টা কেবল পরামর্শ দেওয়ার জন্যই থেকে যাবে।”
জামায়াতের এই নেতা জানান, তাঁরা শুরু থেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইনগত ভিত্তি পাবে এবং বাধ্যতামূলক বাস্তবায়নের কাঠামোর মধ্যে আসবে। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে এটি কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতীকী কাগজে পরিণত হতে চলেছে, যার বাস্তব কোনো মূল্য থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে এমন অনেক সময় এসেছে, যখন জটিল আইনি পরিস্থিতির মধ্যেও সমাধানের পথ বের হয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমান কিংবা এরশাদসহ বিভিন্ন শাসক আইনি পদ্ধতি মেনেই সংসদ গঠন করেছেন ও আইন পাশ করিয়েছেন। এবারও আইনি ভিত্তি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।”
ডা. তাহের প্রস্তাব দেন, সংস্কার প্রস্তাবের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে আইনজ্ঞদের নিয়ে একটি বৈঠক হওয়া উচিত। তিনি বলেন, এখনই সেই আলোচনার সময়, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি কার্যকর রূপ পায়।
তিনি আবারও স্পষ্ট করে বলেন, “জুলাই সনদ যদি বাস্তবায়নযোগ্য না হয় এবং এর পেছনে আইনি শক্তি না থাকে, তাহলে সেটি শুধু একটি প্রতীকী দলিল হয়েই থেকে যাবে। এমন কাগজে স্বাক্ষর করে কোনো লাভ নেই, যার বাস্তব প্রয়োগ নেই এবং জনগণের চোখে যার কোনো গুরুত্ব নেই।”
এই বক্তব্যে ডা. তাহের স্পষ্ট করে দিয়েছেন—সংস্কার প্রস্তাব কেবল কাগুজে দলিল না হয়ে বাস্তব রূপ পেতে হলে, তাকে অবশ্যই আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার। অন্যথায়, জামায়াতে ইসলামী এতে অংশগ্রহণ করবে না।