বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে লাশের সঙ্গে যে বর্বরতা ও নির্মমতা চালানো হয়েছে, তা কারবালার নৃশংসতাকেও হার মানিয়েছে।” তিনি বলেন, “গণতন্ত্র ফেরাতে রাস্তায় নেমেছিল সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, কিন্তু তাদের গুলিতে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম রাজনৈতিক গণহত্যা।”
বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে আশুলিয়ায় বিএনপি আয়োজিত ‘নারকীয় জুলাই’ স্মরণ সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তারেক রহমান বলেন, “৫ আগস্ট ফ্যাসিস্টদের পলায়নের দিন সাভার-আশুলিয়ায় যখন হাজারো মানুষ বিজয়ের আনন্দে উদ্বেল, তখনই পেছন দিক থেকে শুরু হয় নারকীয় গণহত্যা। সবচেয়ে বেশি হতাহত হন পোশাক শ্রমিক, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ।”
তিনি বলেন, “তারা তো সরকারি চাকরি বা কোটা দাবি করেনি। তাহলে কেন তারা রাস্তায় এসেছিল? কারণ তারা বুঝেছিল, একটি ফ্যাসিস্ট সরকার থাকলে গণতান্ত্রিক অধিকার, শ্রম অধিকার বা ন্যায্য মজুরি—কোনো কিছুই আদায় সম্ভব নয়।
তাই রিকশাচালক, ভ্যানচালক, হোটেল কর্মী ও পোশাক শ্রমিকেরা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের লড়াইয়ে শরিক হয়েছিল।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “যারা সেই দিন গুলি চালিয়েছিল, হত্যা করেছিল, লাশ পুড়িয়ে দিয়েছিল—তাদের বিচার একদিন হবেই। শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন কেবল ছাত্র-তরুণদের নয়, বরং এটি ছিল শ্রমিক-মেহনতি জনগণেরও অভ্যুত্থান। এই রক্তাক্ত অধ্যায়ের পূর্ণ বিচার ও স্বীকৃতির জন্য বিএনপি অটল থাকবে বলেও জানান তিনি।