জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, “নির্বাচন এগিয়ে আসছে; হিন্দু সম্প্রদায় ভোটকেন্দ্রে যাবে না যদি পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা না করা হয়।” তিনি সরকারের সংবিধান ও সংখ্যালঘু নীতি-কমিশনগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তান আমলের মতো মৌলবাদকে দেশব্যাপী বলবৎ করার অভিযোগ করেন।
আজ (৩০ জুলাই) বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান আলোচ্যবিষয় ছিল রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় ২২টি হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা, এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত পুনর্বাসন ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি। মানববন্ধনে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন—দুলাল চন্দ্র মণ্ডল, হেমন্ত কুমার দাস, গৌতম সরকার অপু সহ অনেকে।
গোবিন্দ জানান, “গঙ্গাচড়ার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছি। আইনশৃঙ্খলা সংস্থার ভূমিকা ইতিমধ্যে ব্যর্থ হয়েছে—হাজার বছর ধরে এই ভূমিতে বাস করছি, তবুও নাগরিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। আমাদের জনগোষ্ঠীকে অবহেলা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “এতদিন সরকারের গঠিত কোনো সংস্কার কমিশনে আমাদের প্রতিনিধিত্ব নেই—ফলে অশেষ অবহেলা, হিন্দুবিদ্বেষ মানসিকতা নির্ভর করে ওপর।” পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক নির্বাচন কর্মসূচি ঘোষণা করে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন: “এই মৌলবাদী সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন যাতে গ্রহণযোগ্য না হয়, সেটি নিশ্চিত করুন।”
মানববন্ধনের পরিকল্পিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী শুক্রবার থেকে দেশজুড়ে ভোট বর্জনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন গোবিন্দ প্রামাণিক। সংখ্যালঘুরা আলাদা শক্তি হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গণতান্ত্রিক সুযোগ, ন্যূনতম নিরাপত্তা ও নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত না হলে ভোটকেন্দ্র থেকে নির্বাচন বর্জন হিন্দু সম্প্রদায়ের শক্তিশালী প্রতিবাদের অংশ হিসেবে হবে—এই মনোভাব নিয়ে অব্যাহত আছে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সংঘর্ষমুক্ত আন্দোলন।