অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলেও, পরাজিত রাজনৈতিক শক্তির ষড়যন্ত্র থেমে নেই। এবার গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে। মূল উদ্দেশ্য—দেশকে অস্থির করে তুলে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পথ তৈরি করা।
সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ নেতা বাহাউদ্দিন নাছিম এবং শেখ হাসিনার একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শেখরের নির্দেশে রাজধানীতে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। ৮ জুলাই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকার একটি কনভেনশন হলে চলে ওই গোপন প্রশিক্ষণ। অংশ নেন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ৪০০ নেতাকর্মী। প্রত্যেকেই ছদ্মনামে রেজিস্ট্রেশন করে—কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ কার্পেন্টার, কেউবা বাগান পরিচর্যাকারী পরিচয়ে।
প্রশিক্ষণের মূল বিষয় ছিল—নাশকতা, জনসমাগম, আত্মগোপন কৌশল, হামলার পর পালানোর পরিকল্পনা এবং শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য জনমত সৃষ্টি। প্রশিক্ষণের আয়োজক ছিলেন শামীমা নাসরিন শম্পা ও সোহেল রানা, যাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ ও বরগুনায়। ইতোমধ্যে দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে, নেওয়া হয়েছে রিমান্ডে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানায়, এনএসআই ও এসবি’র দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় মূল পরিকল্পনাকারীদের। রাজধানীর ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাও হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্রের তথ্য আমরা পেয়েছি। ব্যবস্থা নিচ্ছি। সফল হতে দেওয়া হবে না।”
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক জানান, “২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত কোনো ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে আমরা প্রস্তুত। ফ্যাসিস্টদের কোনো ঠাঁই হবে না।”