ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত খসড়ায় ৭ নম্বর দফা তথা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এর সাংবিধানিক স্বীকৃতির সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে, বাকি ছয় দফার সঙ্গে তারা একমত হলেও এই দফা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করলে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হবে।
রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে নেতারা মত দেন, জুলাই ঘোষণাপত্রকে রাজনৈতিক দলিল হিসেবে রাষ্ট্রের আর্কাইভে সংরক্ষণ করা যেতে পারে; তবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
বিএনপির মতে, যদি এই ঘোষণাপত্র সংবিধানে যুক্ত হয়, তবে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান কিংবা ভবিষ্যতের যেকোনো অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রেও একই দাবি উঠতে পারে। তাছাড়া একাত্তরের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রও সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হতে ৪০ বছর লেগেছিল এবং এখনো তা নিয়ে মামলা চলছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটি তাই জুলাই ঘোষণাপত্রকে আলাদা করে সংবিধানে তোলাকে অপ্রয়োজনীয় বলছে।
বৈঠকে জানানো হয়, জুলাই সনদের ছয়টি দফা বাস্তবায়ন সম্ভব এবং সরকার গঠনের পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো কার্যকর করা যেতে পারে। বিএনপি আগেই জানিয়েছিল, পুরো ঘোষণাপত্র নয়, বরং অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি হিসেবে একটি অনুচ্ছেদ সংবিধানের চতুর্থ তফশিলে যুক্ত করার পক্ষে তারা।
প্রথম খসড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের কথা বলা হলেও বিএনপির মতামতে পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৭৯ সালের পঞ্চম সংশোধনীতে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন এবং এক-এগারোকে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখের দাবি জানানো হয়।
চূড়ান্ত খসড়ায় বলা হয়েছে, মানবিক ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় সংবিধান সংস্কার করা হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন ও গুম-খুনের বিচারের অঙ্গীকার রাখা হবে। বিএনপি জানিয়েছে, সংস্কার না হলে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি হবে এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য পূরণ হবে না।