পুলিশ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) গাজীপুরের রাজবাড়ি মাঠে এক সমাবেশে তিনি বলেন, “পুলিশ বাহিনীর কোনো রাজনৈতিক দলের লাঠিয়াল হওয়ার দরকার নেই। পুলিশ হবে জনতার, সেবক হয়ে কাজ করবে জনগণের জন্য।”
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে পুলিশের মধ্যে দায়িত্বের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। “কোনো অপঘটনা ঘটলে সব দায় কনস্টেবল বা ওসি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর পড়ে, অথচ উচ্চপদস্থরা থেকে যান দায়মুক্ত। এই অবস্থার পরিবর্তন দরকার।” এ সময় তিনি দ্রুত পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন এই এনসিপি নেতা। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশে বাস করছি, যেখানে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের চেয়ে আকাশে উড়ন্ত দুর্নীতির বিমান বড় হয়ে উঠেছে। আমাদের এখনো নেই আয়রন ডোম, নেই আধুনিক যুদ্ধবিমান বা সাবমেরিন।”
হাসনাত আবদুল্লাহ স্পষ্ট করে বলেন, “ভারতের আছে এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম, আর আমাদের কিছুই নেই। আমরা যখন সরকারে যাব, তখন আধুনিক অস্ত্র, প্রযুক্তি, এবং সক্ষম সেনাবাহিনী গড়ব। কারণ রাষ্ট্রের আত্মরক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি প্রয়োজন।”
তিনি সমালোচনা করে বলেন, “হাসিনা সেনাবাহিনীকে রাজমিস্ত্রিতে পরিণত করেছেন, যাদের মূল দায়িত্ব দেশের প্রতিরক্ষা—তাদের দিয়ে কনস্ট্রাকশন করানো হচ্ছে। এটা জাতির জন্য লজ্জাজনক।”
হাসনাতের ভাষ্যে ফুটে উঠেছে এক কঠিন বাস্তবতা—রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অবসান এবং যুগোপযোগী সংস্কার ছাড়া ‘নতুন বাংলাদেশ’ সম্ভব নয়।