নূর আলম,দুর্গাপুর(নেত্রকোণা)প্রতিনিধি:
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা, টংক আন্দোলনের পথিকৃৎ, মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কমরেড মণি সিংহের ১২৪তম জন্মবার্ষিকী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করেছে দুর্গাপুরবাসী।
সোমবার (২৮ জুলাই) দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল পতাকা উত্তোলন, শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সকালে দুর্গাপুরের মণি সিংহ স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ডা. দিবালোক সিংহ।
পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ মণি সিংহের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
পরে শহরের প্রধান সড়কে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। বিকেলে স্মৃতি জাদুঘরের হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ডা. দিবালোক সিংহ এবং সঞ্চালনা করেন সিপিবি দুর্গাপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুপন কুমার সরকার।
আলোচনায় বক্তব্য দেন মেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অজয় সাহা, সিপিবি নেতা আলকাছ উদ্দিন মীর, শিক্ষক বীরেশ্বর চক্রবর্তী, কৃষক সমিতি জেলা সম্পাদক মোরশেদ আলম, সাংস্কৃতিক কর্মী সফিউল আলম স্বপন, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম রিপন, আদিবাসী ইউনিয়নের জেলা সভাপতি নিরন্তর বনোয়ারী ও নারীনেত্রী তাসলিমা বেগম।
বক্তারা বলেন, কমরেড মণি সিংহ ১৯২৮ সালে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৩০ সালে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ কারাবরণের পর ১৯৩৭ সালে মুক্তি পেয়ে সুসং দুর্গাপুরে ফিরে এসে কৃষকদের সংগঠিত করে টংক প্রথার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে তোলেন।
১৯৪৫ সালে নেত্রকোণায় নিখিল ভারত কিষাণ সভার সম্মেলন আয়োজনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। আজীবন মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করেছেন এই বিপ্লবী।
বক্তারা আরও বলেন, কমরেড মণি সিংহের জীবন ও সংগ্রাম আজও প্রাসঙ্গিক। নতুন প্রজন্মের মধ্যে তাঁর আদর্শ ছড়িয়ে দিলে গড়ে উঠবে শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ।
দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষপর্বে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, মণি সিংহ ১৯০১ সালের ২৮ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। আজীবন তিনি ছিলেন মেহনতি মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে অগ্রণী এক লাল নিশান।