ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেছেন, বাংলাদেশ সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (পিআর) নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নয় এবং জনগণও এই পদ্ধতিকে মেনে নেবে না।
রবিবার দুপুরে সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘উত্তাল জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদ পতন আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুসহ রাজনীতিবিদ, ছাত্র-জনতার অবদান এবং আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন,
“মহান মুক্তিযুদ্ধ বেহাত হয়েছিল, ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থান বেহাত হয়েছিল, ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানও বেহাত হওয়ার পথে। একটি পক্ষ ভারতে বসে বাংলাদেশে অশান্তি তৈরি করতে চায়, আরেক পক্ষ জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করতে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন করতে চায়। ’৭১-এর পরাজিত শক্তি এ দেশের নির্বাচন বিলম্বিত করতে চায়। জনগণ পিআর পদ্ধতি চায় না, তাই পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না।”
ভাসানী জনশক্তি পার্টির মুখপাত্র মো. আব্দুল কাদের বলেন,
“যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গণঅভ্যুত্থানে এত মানুষ প্রাণ দিয়েছে, সেই আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি। আমরা চেয়েছিলাম একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, যেখানে বাকস্বাধীনতা থাকবে, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে, শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার দৃঢ় নীতি গ্রহণ করবে। কিন্তু প্রতিদিন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও খুন দেখতে গণঅভ্যুত্থান হয়নি।”
তিনি আরও বলেন,
“জাতীয় নির্বাচনে যত দেরি হবে, এ দেশের জনগণ তত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্রুততম সময়ে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে এবং জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব আবু ইউসুফ সেলিমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, জেএসডির শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ্ কায়সার, গণসংহতি আন্দোলনের মনির উদ্দিন পাপ্পু, ভাসানী জনশক্তি পার্টির পারভীন নাসের ভাসানী, আমিনুল ইসলাম সেলিম, মাহমুদ আলী, জান্নাতুল ফেরদৌস ও হারুন অর রশিদ।