বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাঙালি জাতি ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ থেকে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন কিংবা গণঅভ্যুত্থান—সবক্ষেত্রেই জাতির ঐক্যই বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। আজও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ে সে ঐক্যই সবচেয়ে জরুরি।
রোববার (২৭ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, আমরা পারি। জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে দাবি তুললে যে কোনো সরকারই সাড়া দিতে বাধ্য হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা দেশের মানুষের পালস বুঝি। তারা উন্নয়ন চায়, গণতন্ত্র চায়। এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
বিএনপি ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জানিয়ে ফখরুল বলেন, “এটি শুধু অবকাঠামো নয়, দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৮ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্ন। সাতবার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া দুঃখজনক।” রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকে বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কমিটির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, পরিবেশবিদ আইনুন নিশাত এবং সিপিডির দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল আহ্বান জানান, “যে সরকারই আসুক, জনগণের ঐক্যবদ্ধ দাবির ভিত্তিতে পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় সেতু নির্মাণে রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিতে হবে।”